চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নে নবগঙ্গা নদী খনন- অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নে নবগঙ্গা নদী খননে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন। গতকাল শনিবার বেলা ৯টায় সদর উপজেলার বুড়োপাড়া ও চণ্ডিপুরসহ নদী এলাকা ঘুরে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে দাবি করেছেন কমিশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম খোকন।

নদী সংলগ্ন একাধিক গ্রাম থেকে এলাকাবাসীর অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে নদীর দু পাড়ের গ্রামগুলোর মানুষের সাথে কথা বলেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। গ্রামগুলো হচ্ছে ধুতুরহাট, শাহাপুর, চণ্ডিপুর, বুড়োপাড়া, সুবদিয়া ও বালিয়াকান্দি।

এলাকাবাসী মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদলকে জানায়, সদর উপজেলার ধুতুরহাট থেকে বালিয়াকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা নদী খননের জন্য কাজ শুরু হয়। এজন্য ৬ জন পিআইসি নিয়োগ করা হয়। পিআইসি নিয়োগে নীতিমালা না মেনে গরিবের পরিবর্তে ধনীদের নেয়া হয়। আবার নদীর তলদেশ খনন না করে এক্সাভেটর দিকে আঁচড় দেয়া হয়। কোথাও নামমাত্র খনন এবং কোথাও খননের পরিবর্তে নদীর বুক ভরাট করে সমান করা হয়। তাছাড়া, নদীর খনন মাপ করার আগেই জিকে ক্যানেল থেকে পানি ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এতে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি এক কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ পিআইসিরা ৩০ লাখ টাকাও খরচ করেননি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিদল সরেজমিন ঘুরে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেন এবং মূল্যায়ন করেন। কমিশনের সাধারণ সম্পাদক এলাকাবাসীকে জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য সফল না করে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও পিআইসিরা অর্থ আত্মসাতের খেলায় মেতেছেন। এজন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি দুদকসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় অভিযোগ করা হবে।

উল্লেখ্য, জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৪২ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ১২  ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ৩০ এপ্রিল কাজের সমাপ্তী ঘোষণা করা হয়। জেলা মৎস্য অফিসের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কার্যক্রমের শুরু থেকে  বাস্তবায়নের শেষ পর্যন্ত প্রতিটা ক্ষেত্রে অভিযোগ আসতে থাকায় প্রকল্পের সুফল ও সফলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *