চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদায় ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মানবেতর জীবনযাপন

অনেকেই হারিয়েছেন কাজ করার সক্ষমতা ॥ নারীরাই ধরেছেন সংসারের হাল
বড়বলদিয়া থেকে ফিরে বখতিয়ার হোসেন বকুল: আবদার আলী, বিল্লাল হোসেন, জর্জ মিয়া, ইজ্জত আলী, আকুব্বার, নজির হোসেন, শান্ত, হাফিজুর, রফিকুল, বিল্লাল হোসেন, লাল মোহাম্মদ, শাহীন, গাজি মালিথা, নূর ইসলাম ওরফে বুড়ো, আলী হোসেন, শরীফ, আলতাফ, আতিকুল, শফিকুল, কালু, সোহরাব, তরিকুল, জিয়াউল, আলাউদ্দীন এই ২৪ জনের বাড়ি দামুড়হুদার বড়বলদিয়া গ্রামে এবং শফিকুল এর বাড়ি পার্শ্ববর্তী সুলতানপুর গ্রামে। এরা সবাই ছিলো দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমিক। একদিন না খাটলে পরদিন তাদের পরিবার পরিজনকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হতো। ওরাই ছিলো পরিবারের একমাত্র উপর্জনক্ষম ব্যক্তি। প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৬ মার্চ রোববার সকালে আলমসাধুতে চেপে ওই ২৫ জন শ্রমিক বাড়ি থেকে বের হন কাজের উদ্দেশে। যাচ্ছিলো চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খুদিয়াখালীতে রাস্তার কাজ করতে। এদের মধ্যে কেউ খেয়ে আবার কেউ না খেয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। কেউ কেউ পান্তা ভাত আর আলু ভর্তা সাথে নিয়েছিলেন গন্তব্যে পৌঁছে খাবে এ রকমই ছিলো ইচ্ছা। পথিমধ্যে দামুড়হুদার জয়রামপুর স্কুল বটতলা নামক স্থানে বালিভর্তি একটি ঘাতক ট্রাক তাদের সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। ওই ২৫ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৩ জনই চলে যায় না ফেরার দেশে। বাকি ১২ শ্রমিকের মধ্যে ৪ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় নেয়া হয় রাজশাহীতে, ৪ জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয় এবং ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নেয়া হয়। ঘটে যাওয়া ওই স্মরণকালের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ শ্রমিকের বাড়িতে এখনও চলছে শোকের মাতম। আপনজনকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন অনেকেই। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ হারিয়েছেন কাজ করার সক্ষমতা। ফলে আহতদের করতে হচ্ছে মানবেতর জীবনযাপন। এখন তাদের প্রয়োজন মাথা গোজার মত একখ- ভিটে জমি।
ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে নিহত পরিবারের লোকজন শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও আহতদের মধ্যে অনেকেই হারিয়েছেন কাজ করার সক্ষমতা। কেউ কেউ ক্রাচে ভর দিয়ে কোনোমতে চলাফেরা করতে পারলেও তাদের পরিবারে নেই কোনো হাসি-আনন্দ। পরিবারের নারী সদস্যরাই কাঁধে তুলে নিয়েছেন সংসারের মূল দায়িত্ব।
নিহতদের পরিবারের নারীদের মধ্যে কেউ কেউ সেলাইয়ের কাজ শিখে আবার কেউ কেউ প্রাপ্ত সাহায্যের টাকায় জমি লিজ নিয়ে সংসারের চাকা ঘুরাবার চেষ্টায় ব্যস্ত সময় পার করলেও খুই কষ্টে আছে গুরুতর আহতদের পরিবারের লোকজন। কারণ প্রাপ্ত সাহায্যের সিংহভাগই টাকাই ব্যয় হয়ে গেছে চিকিৎসার পেছনে।
কেমন আছেন এবং কীভাবে চলছে নিহতদের পরিবার এ তথ্য নেয়ার সময় নিহত শ্রমিক ইজ্জত আলীর স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম জানান, ১ ছেলে এবং ১ মেয়ে। ছেলে জসিম (২৪) বড়। প্রাপ্ত সাহায্যের টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে ছেলেকে ইজিবাইক কিনে দিয়েছি। আর ২০ হাজার টাকা দিয়ে জমি লিজ নিয়েছি। ওই জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। একমাত্র মেয়ে তহমিনা খাতুন দর্শনা সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ১ম বর্ষে অধ্যায়নরত। পড়ালেখার পাশপাশি প্রাপ্ত সেলাইমেশিনের কাজও শিখছে।
নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী আলিমন নেছা জানান, তার কোনো ছেলে নেই। তিনটিই মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। মেজ মেয়ে বড়বলদিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১ম বর্ষে অধ্যায়নরত। আর ছোট মেয়ে চাঁদনী ৮ম শ্রেণিতে পড়ছে। প্রাপ্ত টাকার মধ্যে ১ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখা হয়েছে। বাকি টাকার মধ্যে কিছু টাকা ধার-দেনা পরিশোধ করা হয়েছে। মেয়ে সেলাইমেশিনের কাজ শিখছে।
নিহত আব্দার আলীর স্ত্রী আনজিরা খাতুন জানান, প্রাপ্ত টাকার মধ্য থেকে ১ লাখ টাকায় দেড় বিঘা জমি লিজ নেয়া হয়েছে। কিছু টাকা ধারদেনা পরিশোধ করেছি। ২ মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ে পলি বড়বলদিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে আইএ পড়ছে। পাশাপাশি সেলাইমেশিনের কাজও শিখছে।
নিহত বিল্লালের স্ত্রী আছমা খাতুন জানান, ১ ছেলে ১ মেয়ে। মেয়ে বিউটি বড়। সে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আর ছেলে আসাদ পড়ে ৩য় শ্রেণিতে। সেলাইমেশিনের কাজ শিখছি। ১ লাখ টাকায় দেড় বিঘা জমি লিজ নিয়েছি। ব্যাংকে রেখেছি ১ লাখ টাকা।
নিহত আকুবরের স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, ১ ছেলে ১ মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে আর ছেলে বড়বলদিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ১ লাখ টাকায় দেড় বিঘা জমি লিজ নিয়েছি। বাকি টাকার মধ্যে কিছু টাকা ধারদেনা পরিশোধ করেছি।
নিহত নজির হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম জানান, ২ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে বড়বলদিয়া কলেজে পড়ছে। দেড় লাখ টাকায় ২ বিঘা জমি লিজ নেয়া হয়েছে। যে যে ভাবে পারছে সাহায্য করছে। তাই দিয়েই চলছে সংসার।
নিহত শান্তর বাবা গাজী মালিথা জানান, আমি বেঁচে রইলাম অথচ মারা গেলো ছেলে। আমি রাজশাহী ২১ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়ি ফিরি। বামহাতে রড দেয়া রয়েছে। পানিও ঢেলে খেতে পারিনা। প্রাপ্ত টাকার মধ্য থেকে বৌমাকে দেয়া হয়েছে ১ লাখ টাকা। ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ১টা গরু কেনা হয়েছে। আর ১ লাখ টাকা দিয়ে জমি লিজ নেয়া হয়েছে। বাকি টাকা চিকিৎসার পিছনে ব্যয় হয়ে গেছে। যা সাহায্য পেয়েছিলাম ওই টাকা দিয়েই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চলতে হচ্ছে।
নিহত হাফিজুরের স্ত্রী আকলিমা খাতুন, জানান, ২ ছেলে। বড় ছেলে রাকিব (১৩) আর ছোট ছেলে সিয়াম (৬) বাকপ্রতিবন্ধী। ১ লাখ টাকায় দেড় বিঘা জমি লিজ নেয়া হয়েছে। আর ব্যাংকে রাখা হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। সেলাইমেশিনের কাজ শিখছি। কিছু অর্ডারও পেয়েছি।
নিহত বিল্লালের বৃদ্ধ মা দাসি বিবি জানান, ছেলে বিল্লালই ছিল তার একমাত্র ভরসা। দুঃখের কথা আর কি বলবো বাবা, ছেলে মারা যাওয়ার সাথে সাথে বৌমা জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেলো। ওটা তার ২য় স্ত্রী। যে টাকা পাওয়া গিয়েছিলো তা ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। একভাগ (৮০ হাজার) টাকা বৌমা নিয়ে চলে গেছে। শুনেছি সে নাকি দর্শনায় বিয়েও করে ফেলেছে। বিল্লারলের ১ম স্ত্রী ১৩-১৪ বছর আগে মারা যায়। আগের পক্ষের একটি ছেলে আছে। সে ৯ম শ্রেনিতে পড়ছে। পরিবারে উপার্জণ করার মতো আর কেউই নেই।
নিহত লাল মোহাম্মদের স্ত্রী মাছুরা বেগম জানান, ২ ছেলে আর ১ মেয়ে। মেয়ে বড়। তার বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে দিন মজুরি করে আর ছোট ছেলে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। দেড় লাখ টাকা দিয়ে ২ বিঘা জমি লিজ নেয়া হয়েছে। কিছু টাকা ধারদেনা পরিশোধ করেছি।
নিহত জজের স্ত্রী আখিতারা জানান, স্বামী জজই ি লো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মা, ছোট ভাইসহ সকলের ভরণ-পোষণ সেই করতো। ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দিয়ে জমি লিজ নিয়েছি। আর আমি সেলাইয়ের কাজ শিখছি। ১ ছেলে ১ মেয়ের মধ্যে মেয়ে মায়মুনা মাদরাসায় পড়ে। আর ছেলে ফাহাদ হাসানের বয়স ৪ বছর।
নিহত শাহিনের মা তহমিনা বেগম জানান, ২ লাখ টাকায় দু বিঘা জমি লিজ নেয়া হয়েছে। মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা হওয়ায় বাড়িতেই আছে। সে সেলাইয়ের কাজ শিখছে।
নিহত শফিকুলের স্ত্রী পারভীনা খাতুন জানান, ১ ছেলে। আলিফ (৯) ২য় শ্রেণিতে পড়ে। ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে দেড় বিঘা জমি লিজ নেয়া হয়েছে। নিজে সেলাইয়ের কাজ শিখছি।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী বড়বলদিয়া গ্রামের ২৪ জন এবং পার্শ্ববর্তী সুলতানপুর গ্রামে ১ জন মোট ২৫ জন দিনমজুর গত ২৬ মার্চ সকালে একটি আলমসাধুযোগে আলমডাঙ্গা উপজেলার খুদিয়াখালী গ্রামে কাজের উদ্দেশে বের হয়। সকাল ৬টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর স্কুলবটতলা নামক স্থানে পৌঁছুলে বিপরীত দিক থেকে আসা বালিভর্তি একটি ট্রাকের (চুয়াডাঙ্গা-ট-১১-০৫৮৮) সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৮ শ্রমিক নিহত হন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌছে আহতদের মুমূর্ষু অবস্থায় দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায় আরও ৫ শ্রমিক। এর মধ্যে লাল মোহাম্মদ চিৎলা হাসপাতালে এবং বাকি ৪ জন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মারা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে নিহতদের মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়। দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুর নেতৃত্বে কাউন্সিলর মুন্সি মো. রেজাউল করিম খোকন, সিরাজুল ইসলাম মনি, জাহাঙ্গীর আলম, শেফালি খাতুন, এবং ঠিকাদার হাসু, আজাদ এবং দিপনের সহযোগিতায় ২টি পিকআপভ্যানে করে নিহতদের মরদেহ বড়বলদিয়া গ্রামে নেয়া হয়।
নিহত ১৩ জনের দাফন কাফন এবং গুরুতর আহত ৭ জনের চিকিৎসা বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুসের নির্দেশে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে (দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থ থেকে) ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলমের উপস্থিতিতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান। ওই দিন দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ২টি পিকআপ ভ্যানে নিহত ১৩ জনের লাশ বহন করে নেয়া হয় বড়বলদিয়ায়। ট্রাক থেকে লাশ নামিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে নেয়ার সময় পরিণত লাশের মিছিলে। চারদিকে শুধু স্বজন হারানো কাঁন্না আর আহাজারি। স্মরণকালের এ মর্মান্তিক সড়ক রুর্ঘটনায় দামুড়হুদা উপজেলাসহ পুরো জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামই পরিণত হয় লাশের মিছিলে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন নিহতদের পরিবারের লোকজন। নিহতদের একনজর দেখতে জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে যায় বড়বলদিয়া গ্রামে। বিকেলে নিহত ১৩ জনের মধ্যে বড়বলদিয়ার ১২ জনকে বড়বলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া অপর নিহত সুলতানপুরের শফিকুলকে একই সময়ে নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টুসহ হাজারো মানুষ জানাজার নামাজে অংশ নেন।
নিহত ১৩ জনের মধ্যে যে ৮ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান তারা হলেন- বড়বলদিয়া গ্রামের রহিম বক্সের ছেলে আবদার আলী (৪৬), একই গ্রামের ঠা-ুর ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩০), মৃত ইন্নালের ছেলে আকুব্বার (৫০), গোলাম হোসেনের ছেলে ইজ্জত আলী (৪৫), গাজি মালিথার ছেলে শান্ত (১৬), কিতার আলীর ছেলে নজির (৬০), বাবলুর ছেলে হাফিজুর রহমান (৩৫) এবং পার্শ্ববর্তী সুলতানপুর গ্রামের ফিরোজ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৮)। এছাড়া বাকি ৫ জনের মধ্যে বড়বলদিয়া গ্রামের কানাই ম-লের ছেলে লাল মোহাম্মদ (৪৫) দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (চিৎলা হাসপাতালে) এবং একই গ্রামের মৃত ভোলাই ম-লের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৪৬), মৃত খোদা বক্সের ছেলে জর্জ মিয়া (২৮), লিয়াকতের ছেলে শাহীন (২০) এবং মৃত রমজান আলীর ছেলে রফিকুল (৪৫) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।
আহত ১২ জনের মধ্যে বড়বলদিয়া গ্রামের মেন্তার ছেলে সোহরাব হোসেন (৪৫), একই গ্রামের আজান আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন (৩৫), নাসির উদ্দীনের দু ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২) ও কালু (২৭) এবং মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে গাজি মালিথা (৪৫) এই ৪ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বাকি ৮ জনের মধ্যে আসানের ছেলে শরীফ উদ্দীন (৪৫), জালালের ছেলে আতিকুল ইসলাম (২৫), নাসির উদ্দীনের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২) এবং আশু ঘরামীর ছেলে নূর ইসলাম ওরফে বুড়ো (৪৮) এই ৪ জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। এছাড়া ফরজ আলীর ছেলে তরিকুল (৩০), নিয়ামত ম-লের ছেলে জিয়াউল (৪৫), মিনা ম-লের ছেলে আলাউদ্দীন (৩৩) এবং মৃত মিনহাজ উদ্দীনের ছেলে আলী হোসেন (৫৫) এই ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর বাড়িতে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published.