চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ পুনর্গ্রেফতারে হয়রান

 

 

হাজতপালানো শাহীন ছোট বেলা থেকেই পালানোয় পটু

আলম আশরাফ: অনাদর অবহেলায় বেড়ে ওঠা শাহীন ছোটবেলা থেকেই পালানোয় পটু। আদালতের হাজতখানা থেকে পালানো প্রথম হলেও বন্দিশালা থেকে পালানো পুরোনো ইতিহাস রয়েছে তার। ছোটবেলায় এতিমখানা থেকেও পালিয়ে আত্মগোপন করে সে।

শাহীন তার পিতার নাম আক্তার বলে পরিচয় দিলেও সে প্রকৃত পক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের গোবরগাড়ার জালালের ছেলে। শাহীনের মা ছায়েরা খাতুন এ তথ্য দিয়ে বলেছে, ওর বয়স যখন ৭ মাস তখন জালাল উদ্দীন মারা যান। কয়েক মাস আমার কাছে ছিলো। কিছুদিনের মাথায় ওকে ওর ফুফু জবেদা খাতুন নিয়ে যায় ফুফুরবাড়ি চোরকোল গ্রামে। সেখানেই বড় হতে থাকে। বয়স যখন ৭/৮ বছর হয় তখন তাকে মেহেরপুর এতিমখানায় দেয়া হয়। ওর ফুফুরাই এতিমখানায় দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এতিমখানায় ৬/৭ বছর থাকে। একদিন সুযোগ বুঝে সে এতিমখানা থেকে পালিয়ে আসে। তখন আমি ডিঙ্গেদহ আনসার ক্যাম্পপাড়ার আক্তারের স্ত্রী। এ সংসারে ওকে রাখতে পারিনি। ফুফুর বাড়ি গিয়েও তেমন আশ্রয় পায়নি। বিপথে নেমে পড়ে। টোকাই সাজে। এটা ওটা চুরি করে। এর ওর হাতে মারও খায়। কোথায় থাকে, কি করে, তার খোঁজ রাখতে পারিনি। পথে পথে ঘুরেছে। বয়স বেড়েছে। মানুষ হয়নি। এখন শুনছি সে হাজতখানা থেকে পালিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের এতিমখানাপাড়ার রেজাউল হকের বাড়িতে গত ১৬ অক্টোবর চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে চুরি ও হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়। এ মামলায় সেই থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলহাজতেই ছিলো। গত ১ জুলাই মামলার ধার্যদিনে আদালতে আনা হয়। এদিন আদালতের হাজতখানার বাথরুমের ভেন্টিলেটারের মোটা রড কেটে পালিয়ে গেছে সে। কর্তব্যে অবহেলার দায়ে এটিএসআইসহ তিন কনস্টেবলকে সাময়িক চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। সদর থানায় মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ৪ দিনে পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ সদর থানা পুলিশ নানামুখি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এরই মাঝে হাজতপালানো শাহীন সম্পর্কে জানতে গেলে তার সম্পর্কে পাওয়া যায় নানা তথ্য। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শাহীন মাঝেমাঝেই চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আনুমানিক তিন বছর আগে সে ধরা পড়লে থানার বাথরুম থেকে পালানোর চেষ্টা করে। হাতের হ্যান্ডকাপটি খুলে পালানোর সুযোগ খোঁজার মাঝে টের পাওয়ায় সে দফা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য রক্ষা পান। এবার সে কোর্ট কাস্টডি থেকে পালিয়েছে। তাও আবার মোটা রড কেটে। কখন কাটলো? কখন পালালো বুঝতেই পারেনি কর্তব্যরত পুলিশ।

চুয়াডাঙ্গা কোর্টকাস্টডি থেকে পালানোর পর শাহীন কি তার মায়ের সাথে দেখা করেছে? এ প্রশ্নের জবাবে ছায়েরা খাতুন বলেছে, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আমারই কোনো ঠিক নেই। সে আমার সাথে দেখা করতে আসবে কীভাবে? দেখা হয়নি। দেখা হলে বলবো, পুলিশের কাছে ধরা দিতে। শাহীনের বর্তমান বয়স ২১/২২ বছর। চুরিচামারি না করে কাজ করে খেলে ওর তো চলে যাবে। এই কথাটি বলার মতোই তো তার কেউ নেই।

 

Leave a comment

Your email address will not be published.