চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের বিশেষ উদ্যোগ ॥ মতবিনিময়সভা নিয়ে আশাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষার মান কোন দিকে? সরকারি বিদ্যালয় দুটিতে শিক্ষক সঙ্কট যেমন চরমে তেমনই কিছু শিক্ষক রয়েছেন যাদের লক্ষ্যই হলো প্রাইভেট পড়িয়ে উপরি আয়। এর পাশাপাশি যুক্ত হয়ে বিদ্যালয়েই কোচিঙের নামে সীমাহীন ফাঁকিবাজির অভাবনীয় মহড়া। এসব দেখে বুঝেও অভিভাবকদের যেন কিছুই বলার নেই। মুখ খুললেই যদি শিক্ষার্থী সন্তানের ওপর নামে খড়গ?
আগামীকাল ২২ জুলাই চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষকসহ জেলার শীষর্ স্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাদান কেন্দ্র বা কোচিং প্রধানদের নিয়ে মতবিনিময়ের আয়োজন করেছেন। অনুষ্ঠিতব্য মতবিনিময় নিয়ে ইতোমধ্যেই অভিভাবকদের মধ্যে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কি এবার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো সত্যি সত্যিই বন্ধ হচ্ছে? বিদ্যালয়ে এমনিতেই শিক্ষক সঙ্কট। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কাটে হইহুল্লোড়ে। বিদ্যালয়ের কোচিঙের চিত্রও অভিন্ন। এসব থেকে কি পরিত্রাণ মিলবে?
চুয়াডাঙ্গার শিক্ষানুরাগীদের অনেকেরই ধারণা, দক্ষ শিক্ষকদের কাছেই প্রাইভেট টিউশন নিতে যায় ছাত্র-ছাত্রীরা। অদক্ষদের বেলায় বিদ্যালয়েই কোচিঙের গুরুত্ব বাড়ে। নীতিমালায় থাকা অসঙ্গতিগুলো কাজে লাগিয়ে কাড়ি কাড়ি টাকা আয় করে ভাগবাটোয়ারায় প্রাধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে হয় পোয়াবারো। ফলে পিছিয়ে পড়া বা আগ্রহী অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ে কোচিঙে নেয়ার কথা থাকলেও কৌশলে ঢালাও কোচিঙে পড়তে বাধ্য করার হীনমানসিকতার কাছে মূলত জিম্মি বহু অভিভাবক। এসব থেকে পরিত্রাণের পাশাপাশি জেলায় গড়ে তোলা বিদ্যালয়ের বাইরে তথা বেসরকারি কোচিং সেন্টারগুলোর শিক্ষকদের কেউ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কি-না তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে অভিমত অনেকের। তবে চুয়াডাঙ্গার বহুল প্রশংসিত শিক্ষক রেজাউল হকের ক্যাডেট কোচিঙের গুরুত্ব রয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন। তবে বিদ্যালয় চলাকালে অন্য কোনো কোচিং যাতে চালু না থাকে সেদিকে যেমন গুরুত্বসহকারে দেখা দরকার, তেমনই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার প্রবণতা দূর করার বাস্তবমুখি পদক্ষেপ প্রয়োজন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন নিশ্চয় এদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেবেন বলে আশা করছেন শিক্ষানুরাগী মহল। যদিও অনেক শিক্ষকেরই দাবি, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারলে আমরা কেন প্রাইভেট পড়াতে পারবো না। নীতিমালায় নিজের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর বদলে অন্য বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী নেয়ার কথা বলা থাকলেও তা কতোটা বাস্তবসম্মত তা বোদ্ধাদের পুনঃপুন ভেবে দেখা দরকার।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কট তেমন না থাকলেও ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কট চরমে। ৫১ জন শিক্ষকের স্থলে অর্ধেকও নেই। ফলে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শ্রেণিতেই শিক্ষক না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের কাটে হইচই করে। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব খাটানোর মানসিকতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে কয়েক বছর ধরে। বিশেষ করে কেবিনেট নির্বাচনের পর সুক্ষ্মভাবে রাজনীতির ছোঁয়া ওদের বাইরের বড় ভাইদের প্রভাবে প্রভাবিত করেছে বহুগুণ। তাছাড়া শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পরীক্ষা নেয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার ক্ষেত্রেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে অপ্রতুলতা। ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার উত্তরপত্র যথাযথ মূল্যায়নও সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে চুয়াডাঙ্গার দুটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন শিক্ষক স্বল্পতা দূর করা। এরপর দরকার বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান বৃদ্ধির পাশাপাশি পাঠগ্রহণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করে তোলা। এসব কি সত্যিই সম্ভব হবে? নাকি নতুন নিয়মের খড়গ শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে? এরকম নানা প্রশ্ন এখন অভিভাকদের মাঝে ঘুরপাক খেলেও হয়রানি বন্ধ হবে বলেই আশা সকলের।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *