চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির পিকেটিং মিছিলগুলোয় পুলিশি বাধা : মেহেরপুরে ককটেল বিস্ফোরণ

বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের ৮৪ ঘণ্টার হরতালের তৃতীয় দিন : বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ভাচুর অগ্নিসংযোগ

 

মাথাভাঙ্গা ডেস্ক: বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা ৮৪ ঘণ্টার হরতালের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল হয়েছে। তবে বিএনপির তিনটি অংশ পৃথক স্থান থেকে পিকেটিং মিছিল বের করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। বিএনপির কোনো মিছিলই ৫শ গজের অধিক সড়ক প্রদক্ষিণ করতে পারেনি। মেহেরপুর ও ঝিনাইদহেও হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশি গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে সংঘর্ষে শতাধিক আহত ও পাবনায় এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। ঈশ্বরদীর মুলাডুলিতে পুলিশের তাড়া খেয়ে আসাদুল নামে ওই কর্মী নিহত হন। এছাড়া সুনামগঞ্জ এবং টাঙ্গাইলের মধুপুরে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এদিকে পাল্টাপাল্টি মিছিল-সমাবেশকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও টাঙ্গাইলে মধুপুরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।অপরদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রায়েরবাগে একটি যাত্রীবাহী বাসে গান পাউডার দিয়ে হরতাল সমর্থনকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে এক ছাত্রীসহ ৮ যাত্রী ঝলসে যায়। এছাড়া বিরোধী দলের তিন হরতালে রাজধানীসহ সারাদেশে যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ দগ্ধ হয় এবং ২ জন মারা যায়। বর্তমানে উক্ত ৮ বাস যাত্রী নিয়ে ২৫ জন অগ্নিদগ্ধ বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন। গতকাল অগ্নিদগ্ধ ৮ জন হচ্ছেন- ইডেন কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অনার্সের ছাত্রী রাবেয়া সুলতানা (২৪), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মচারী আব্দুল মান্নান (৩৪), ফেরি করে ফুল বিক্রেতা আব্দুর রহিম (২৮), রাজমিস্ত্রি আবুল কালাম (৪৫), প্রকৌশলী শুভ (২৬), আবু বকর (৩৬), প্রকৌশলী আব্দুল হাই (৪৫) ও তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ছাত্র তারেক (১৯)। মৃত ব্যাক্তিরা হচ্ছেন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল (৩৫) ও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মনির (১৩)।

 

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির উদ্যোগে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৮৪ ঘণ্টা হরতালের তৃতীয় দিনে হরতালের সমর্থনে এক পিকেটিং মিছিল দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহীদ হাসান চত্বর অভিমুখে অগ্রসর হলে পোস্ট অফিসের সামনে পুলিশি বাধার মুখে মিছিলটি পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি এম জেনারেল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপিরর যুগ্মসম্পাদক অ্যাড. ওয়াহেদুজ্জামান বুলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মজিবুল হক মালিক মজু, যুগ্মসম্পাদক রবিউল ইসলাম লিটন, জেলা ওলামা দলের সভাপতি ফজলুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফ উর জামান সিজার, জেলা যুবদলের সদস্য আশরাফ বিশ্বাস মিল্টু, ইমরুল হাসান জোয়ার্দ্দার মুকুল, আতিয়ার রহমান লিটন, আরিফুজ্জামান পিন্টু, ফারুক মল্লিক, প্রভাষক আতিয়ার রহমান, মজনু মণ্ডল, আহসান হাবীব মুক্তি প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ওয়াহেদুজ্জামান বুলা বলেন, পুলিশ দিয়ে ১৮ দলের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। তিনি অবিলম্বে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি দাবি করেন এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য চুয়াডাঙ্গাবাসীকে আহ্বান জানান।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার হরতালের তৃতীয় দিনে সকাল থেকেই রাজপথ হরতাল সমর্থিতদের দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। তবে বেলা সাড়ে ১০টায় পুলিশি বাধায় কোর্টমোড়ে বিএনপি নেতা অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে মিছিলটি বড়বাজারে যেতে না পেরে পিছু হটে। হরতাল চলাকালে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো।

১৮ দলীয় জোট ঘোষিত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে ৮৪ ঘণ্টার হরতালের সমর্থনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও পৌর ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জেলা বিএনপি একাংশের সভাপতি মুহা. অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি কোর্টমোড় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেদারগঞ্জস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জেলা বিএনপি একাংশের সভাপতি মুহা. অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মফিজুর রহমান, মাহমুদুল হক পল্টু, রউফুন নাহার রীনা, আবু আলা সামছুজ্জামান, জেলা জামায়াত ইসলামীর শুরা সদস্য অ্যাড. আসাদুজ্জামান, বিএনপি নেতা অ্যাড. হেদায়েত হোসেন আসলাম, আব্দুস সালাম, পৌর জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, কৃষকদল নেতা হাজি আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

অপরদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে চট্রগ্রাম জেলার বড় আওলীয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান বাপ্পি হত্যা ও সারাদেশে জামায়াত-বিএনপির হরতাল নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে। চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় শহীদ হাসান চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফ হোসেন দুদু। বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, অ্যাড. ফিরোজ আহম্মেদ, মতিয়ার রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শরিফ উদ্দিন, মেহেদি, যুগ্মসম্পাদক ফরিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ফরিদ আহম্মেদ, সদর থনা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লাল্টু, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক কালু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ভুলন, বুলবুল, ইসা, শিমু, সদর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সুমন রেজা, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি জাবিদ, সাধারণ সম্পাদক স্বজল, কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জানিফ, জেলা ছাত্রলীগের স্বজল, রাজা, শান্তি, বেজীয়, ফয়সাল, মধু, খালেক, সিহাব, হাসান, মাফি, রুবেল, তাওরাত, নোন্তা, তাপু, জাহাঙ্গীর, হাসিবুল, হালিম,  সামাদ, ইমরান, আলামিন, বিপ্লব, জ্যাকি, এজাজ, জনি প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা বড় আওলীয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান বাপ্পিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ হত্যার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে খুনিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা আরও বলেন, বিরোধীদলকে হরতালে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের পথ পরিহার করে সংলাপের মাধ্যমে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

আলমডাঙ্গা ব্যরো জানিয়েছে, গতকাল আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টার দিকে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। শেষে দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসরাফ হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল জব্বার, বিএনপি নেতা ডা. আলাউদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান পিন্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এমদাদুল হক ডাবু, চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোযার হোসেনের উপস্থাপনায় আরও বক্তব্য রাখেন মহিনুল ইসলাম, আলী হোসেন, আবু বকর, রেজাউল করিম, চমক, ওল্টু, মফিজউদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক মিল্টন মল্লিক, মাগরিবুর রহমান, ওহিদুল ইসলাম, গোলাম হোসেন, পৌর যুবদল নেতা ফারুক, মঞ্জু, মামুন, মুকুল, চিনি, জর্ডেন, লাল্টু, বজলু, আলাল, আজাদ, খাঁজা, শুকচাদ, শরিফুল, আজম, আইনাল, আলম, আলমগীর, বোরহান, আব্দার আলী, বাকী বিল্লাহ, উজ্জ্বল, ছাত্রদল নেতা তৌফিক খান, লিমন, রহিত, রাশেদ, তনু, সজীব, মানিক, তরিকুল, কার্জন প্রমুখ।

জীবননগর ব্যুরো জানিয়েছে, মঙ্গলবার জীবননগরে বিএনপি নোয়াব আলী গ্রুপ ও জামায়াত-শিবির যৌথভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। সকালে উপজেলা বিএনপির একাংশ সভাপতি পৌর মেয়র নোয়াব আলী ও পৌর জামায়াতের আমির মাও. সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে শহরে এ বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা বিএনপির একাংশ কার্যালয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির একাংশ সভাপতি পৌর নোয়াব আলী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী উপজেরা মজিরা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আক্তার রিনি, পৌর আমির মাও. সাজেদুর রহমান, সেক্রেটারি গোলাম রসুল, উপজেলা যুবদল সভাপতি পৌর প্যানেল মেয়র মশিউর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহসেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, পৌর ছাত্রশিবির সভাপতি ফিরোজ হোসেন, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর হযরত আলী, কাউন্সিলর সামসুজ্জামান হান্নু, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আনিছুর রহমান শিপলু, যুবদল নেতা আবুল হোসেন তোয়া, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মজনুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, বিশারত আলী, ছাত্রদল নেতা হাসান, রয়েল, বাপ্পা, সুজন, সুমন, বাবু, হারেজ ও মনির।

দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদায় শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। সকাল থেকে রাস্তায় কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করেনি। উপজেলা সংগ্রাম কমিটি আহ্বায়ক লিয়াকত আলী শাহসহ অন্যন্য নেত্রীবৃন্দ সন্ধ্যা পর্যন্ত পিকেটিং করেন। স্বতস্ফুর্তভাবে হরতাল পালনে বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষ পুর্ণসহযোগিতা করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন ১৮ দলের উপজেলা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী শাহ।

আমঝুপি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হরতালের ৩য় দিনে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরেরকর্মীরা গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে আমঝুপি বারাদী সড়কে এআরবি কলেজমোড় থেকে রাজনগর পর্যন্ত সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এক পর্যায়ে একটি ট্রাক্টর ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। অবরোধের সময় এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েব আমির সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম, জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. আরজুল্লাহ, ইউপি সদস্য আলিহিম ও আব্দুল জাব্বার।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহাঙ্গীর আলমের উদ্যোগে বেলা ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা কোর্টমোড়স্থ দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে ফিরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আইনুর হক পচার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হবি। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বকুল, সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম ওহিদ, জেলা কৃষকদলের সভাপতি হামিদুল হক নেতাজী, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির যুগ্মসম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, আফতার উদ্দিন পিন্টু আলমডাঙ্গা থানা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান বাবু, তৃণমূল দলের আহ্বায়ক শামিম আল মামুন প্রিন্স, যুগ্মআহ্বায়ক আশরাফুল আলম প্রমুখ।

মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুরে ককটেল বাজির মধ্যদিয়ে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের তৃতীয় দিন শুরু হয়। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের রাজনগর, মেহেরপুর-কাথুলী সড়কের কায়েমকাটার মোড় এবং মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের বন্দর নামক স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। কায়েম কাটার মোড়ে অবরোধের সময় ১০/১২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় হরতাল সমর্থনকারীরা। রাজনগর এলাকায় পুলিশের বাধায় বিক্ষোভ মিছিল করতে না পেরে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

এদিকে হরতাল চলাকালে মেহেরপুর থেকে আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার কোনো বাস-ট্রাক চলাচল করেনি। তবে শহরে রিকসা-ভ্যানের পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত যান চলাচল করতে দেখা গেছে। শহরে বেশ কিছু দোকানপাটে একপাল্লা খুলে বেচা-কেনা চলেছে। স্কুলকলেজ খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিলো। ব্যাংক-বীমায় সাবধানে লেনদেন হয়েছে। অফিস-আদালত খোলা ছিলো। তবে লোক সমাগম কম ছিলো। যেকোনো ধরনের অঘটন ঠেকাতে ও জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়।

ঝিনাইদহ অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ জেলা শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকে। দূরপাল্লাসহ স্থানীয় কোনো রুটে যান চলাচল করতে দেখা যায়নি। এদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণস্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা সদর, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলা থেকে ৭ জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, হরতালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝিনাইদহ শহরের মথুরাপুর ও আরাপপুর থেকে শিবিরকর্মী জামাল, সম্রাট ও ছাত্রদলকর্মী জাহিদুলকে আটক করে পুলিশ। কালীগঞ্জে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর মামলায় যুবদলকর্মী রতনকে আটক করা হয়। এদিকে মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারে পিকেটিং করতে গিয়ে আটক হন এসবিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম। এছাড়া নাশকতার আশঙ্কায় মহেশপুর পৌর জামায়াতকর্মী হযরত আলী ও শিবিরকর্মী জাহিদুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোর থেকে আরাপপুর, হামদহ, পবহাটি, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, হাটগোপালপুর এলাকায় হরতাল সমর্থিতরা খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল বের করে। জেলা যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক মিজানুর রহমান সুজন, মীর ফজলে এলাহী শিমুল ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আনন মিছিলের নেতৃত্ব দেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে হরতালের স্বপক্ষে স্লোগান দেয়। শহরের কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে হরতাল সমর্থকরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে শহরে হাটচাঁদনি থেকে শুরু হয়ে হরতালের সমর্থনে মিছিলটি মেন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ১৮ দলীয় জোটের কালীগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব হামিদুল ইসলাম হামিদের নেতৃত্বে মিছিলে বিএনপি-জামায়াতসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়। মিছিল শেষে উপজেলা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে হামিদুল ইসলাম হামিদ, আনোয়ারুল ইসলাম রবি, মাহবুবার রহমান মিলন, শাহাজাহান আলী, কোরবান আলী বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আটক দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান।

ঝিনাইদহ অফিস আরও জানিয়েছে, ঝিনাইদহে হরতালবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। ১৮ দলের ডাকা টানা ৮৪ ঘণ্টা হরতালের নামে গাড়ি পোড়ানো, মানুষ হত্যা, বোমাবাজি ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে হরতালবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল বের করে নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে মিছিলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেয়। মিছিল থেকে হরতালবিরোধী নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ, আক্কাস আলী, গোলাম সরোয়ার সউদ, লিয়াকত আলী, অশোক ধর, কাজী কামাল আহমেদ বাবু, আসাদুজ্জামান, নজরুল ইসলাম, একরামুল হক লিকু, আশরাফুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, বিশ্বজিত সাহা মিথুন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, হরতালের নামে জামায়াত-শিবিরকে সাথে নিয়ে বিএনপি দেশে সস্ত্রাস, নৈরাজ্য, বোমা ও ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। আন্দোলনের নামে এ ধরনের তাণ্ডব সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না। বক্তারা আরও বলেন, প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য হরতালের নামে দেশে মানুষ খুনের রাজনীতি শুরু করেছেন। দেশের শান্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বিনষ্ট করার এ হরতাল জনগণ চায় না।

ডাকবাংলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সাধুহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আনামের নেতৃত্বে হরতাল সমর্থনে মিছিল বের হয়। বাজারের নাজমুন প্লাজা থেকে শুরু করে আলাউদ্দীন টাউয়ারে মিছলটি শেষ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ বক্তব্য রাখেন সাধুহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি ওলিয়ার রহমান, বাজার যুবদলের সভাপতি নাহিদ, ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক রিপন, ছাত্র দলের সিনিয়র সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সেলিম রেজা মিলন, আফাঙ্গীর, বছির, জমির, আব্দুল গফুর, কবির হোসেন, শামিম প্রমুখ।

বদরগঞ্জ ব্যুরো জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গার বদরগঞ্জ ও সরোজগঞ্জ এলাকায় হরতাল পালিত হয়েছে। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত বদরগঞ্জ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে সদর থানা পুলিশ বাধা দেয়। পরে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি বদরগঞ্জ মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন স্থানে সমাবেশ করে। মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আ. মজিদ মিয়া ও বিএনপি নেতা গোলাম রসুল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *