চুয়াডাঙ্গায় নিরাপদ আম বিপণনে নীতিনির্ধারণী পরিবেশ শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপ

কৃত্রিম নয় প্রাকৃতিকভাবেই ফল পাকিয়ে বাজারজাত করার ওপর গুরুত্বারোপ

 

স্টাফ রিপোর্টার: কৃত্রিম কোনো উপায়ে ফল পাকালে কেউ ছাড় পাবে না। প্রাকৃতিকভাবেই ফল পাকিয়ে বাজারজাত করতে হবে। চুয়াডাঙ্গায় ‘নিরাপদ আম বিপণনে নীতিনির্ধারণী পরিবেশ শীর্ষক এক আঞ্চলিক সংলাপে পুনঃপুন এ তাগিদ দেয়া হয়। যদিও মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আমে ফরমালিন ব্যবহারের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে উৎপাদনকালে ব্যবহৃত কীটনাশক ব্যবহার প্রয়োজনের তুলনায় অত্যাধিক মাত্রায় পাওয়া গেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় ইউএসএইড-বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ভ্যালু চেইন প্রকল্পের আয়োজনে সংলাপে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসাইন। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ। সংলাপে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালের অধ্যাপক ড. এমএ রহিম সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে বলা হয়, আমসহ সব ফলেই প্রাকৃতিকভাবেই সামান্য পরিমান ফরমালডিহাইড রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে, যা ফলকে প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষণের শক্তি জোগায়। পাকা আমে বাইরে থেকে ফরমালিন ব্যবহার করলে আমের পচন তরান্বিত হয় এবং ব্যবসায়ীরই ক্ষতি হয়। তবে যা ব্যবহার হয় তা হলো ইথিফোন, যার পরিমিত ব্যবহার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি। তিনি বলেন, গত বছর আমের ফরমালিন সনাক্ত করার জন্য য যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে তা মূলত রাসায়নিক কারখানায় বাতাসে ফরমালিন উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য উপযুক্ত। এতে যথেষ্ট ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। আম শিল্প হুমকির মুখে পতিত হয়েছে। আম পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কারবাইডের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে বলে বাংলাদেশ সরকার এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আম বাংলাদেশের একটি অন্যতম অর্থকারী ও পুষ্টিকর ফল। দেশে বর্তমানে আমের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বাজার সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু রপ্তানিও হচ্ছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে কীটনাশ ও রাসায়নিকের ব্যবহার সম্পর্কে কোনো নীতিমালা এবং সচেনতা না থাকায় প্রকৃত ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকগণ নতুন করে আর এ শিল্পে বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ইউএসএইড বাংলাদেশের ‘ফিড দ্যা ফিউচার’ উদ্যোগে অন্তর্ভূক্ত চেইন প্রকল্পটি বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা উন্নত করার লক্ষে কাজ করছে।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, আপাতত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত ফরমালিন, কারবাইড ও ইথিফোন ব্যবহার করা যাবে না। প্রাকৃতিক নিয়মে আম পাকাতে হবে।

সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুস সামাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অতিরিক্ত পরিচালক আনোয়ার জাহিদ। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন আজিজুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক নির্মল কুমার দে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ আম উৎপাদক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ এ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউএসএইডের চীফ অব পার্টি ড. ইউলিয়াম টি লিভাইন। উন্মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন যশোর এডিসি রিজিওনাল ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং একটি উন্নত বাজার ব্যবস্থা প্রবর্তণের লক্ষে এভিসি প্রকল্পট বর্তমানে খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ২০ জেলায় এ সংলাপের আয়োজন করে আসছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে বৈচিত্রময় ও পুষ্টিকর সবজি, ফল, ডাল ও খাদ্যবহির্ভূত অর্থকারী ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তার্জাতিক পর্যায়ে বিপণনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *