চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুরে বন্ধকি জমির ধানকাটা নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষ : মহিলাসহ আহত ১৪

 

বেগমপুর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার কুন্দিপুর গ্রামে বন্ধকি জমির ধানকাটা নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের মহিলাসহ ১৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। একপক্ষ চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করেছে। অপরপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে।

সরেজমিনে জানা গেছে, বছর ছয়েক আগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর বেলেমাঠপাড়ার সৈয়দ আলীর মেয়ে ঝরনার সাথে বিয়ে হয় একই পাড়ার আ. মান্নানের ছেলে মুছার। দু মাস আগে তাদের মধ্যে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে। মুছা সৈয়দ আলীর জামাতা থাকাকালীন ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ১৫ কাঠা জমি বন্ধক রাখে গ্রামের কুশোগাড়ি মাঠে। সেই জমিতে মুছা ধানের চাষ করে। মুছার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বন্ধকি জমির ধান কাটতে গেলে সৈয়দের পরিবারের লোকজন জমি বন্ধক দেয়া হয়নি বলে মুছাকে জানিয়ে দেয়। তারপরও গতকাল মুছা ওই জমিতে ধান কাটতে গেলে সৈয়দের লোকজন বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায় উভয়পক্ষ বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। হাতে থাকা লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় আ.মান্নানের পক্ষে রক্তাক্ত জখম হয় ছেলে ইছাহাক (২৫), স্ত্রী জমিলা (৫০), ছেলে হোসেন (৩২), ইছা (২৫) ও মেয়ে মনোয়ারা (২২)। অপরদিকে সৈয়দ আলীর পক্ষে জখম হয় সৈয়দ আলী (৬৫), ছেলে হাবু (৪০), বিল্লাল (৩৫), ফারুক হোসেন (২৫) বিল্লালের স্ত্রী মলিনা খাতুন (৩০), হাবুর স্ত্রী পারুলা খাতুন (৩৫), ফারুকের স্ত্রী আছমা বেগম (২২) সৈয়দ আলীর বেয়াই জলিলের ছেলে আইয়ুব আলী (৪৫) ও এক আত্মীয় ছাবিনা (৩০)। উভয়পক্ষের আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। এদরে মধ্যে ইছাহাক ও হোসেন এবং সৈয়দ আলীরপক্ষের আইয়ুব আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

গ্রামসূত্রে জানা গেছে, মুছা এখন সৈয়দ আলীর জামাতা নেই তাই সৈয়দ আলী জমি দিলেও ধান কাটতে বাধা দেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি গাজী মো. ইব্রাহিম জানান, এ ঘটনায় সৈয়দ আলীর পক্ষে জামাল বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে উত্তেজনা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *