গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন : অনেক শ্রমিক অঙ্গার

স্টাফ রিপোর্টার: তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির বছর না গড়াতেই গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা গেছেন অনেক। গতরাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা ১৬ জনের লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর রাত ২টার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। এদের মধ্যে রয়েছে- পোশাক কারখানাটির এজিএম রাশেদুজ্জামান এবং ফিডারম্যান নাইমুল ইসলামও।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বেরাইদেরচালা এলাকায় পলমল গ্রুপের আসওয়াদ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানায় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে আগুন লাগে। গাজীপুর, টঙ্গী এবং ময়মনসিংহের ভালুকার ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট রাত দেড়টার দিকে আগুন নেভায়। এরপর লাশ উদ্ধার শুরু হয়। শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন।  গাজীপুরের দু অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহনওয়াজ দিলরুবা খান ও শেবাশ্চিম রেমাও আছেন সেখানে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু জাফর আহমেদকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন টেলিভিশনের খবরে নয়জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে গাজীপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমিও নয়টি লাশ উদ্ধারের কথা শুনেছি। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রাশেদুজ্জামান, নাঈম, শ্রমিক রুবেল, খলিল, লাজু মিয়া ও বিদ্যুতমিস্ত্রি রাজু। রাশেদুজ্জামানের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। তার ভাগ্নে নাঈমের বাড়ি বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুরে। রাত দেড়টার দিকে তাদের লাশ বের করে আনা হয়। রুবেল ও লাজু মিয়ার বাড়িও রংপুরের মিঠাপুকুরে।

Gazipur

কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে কতোজনের প্রাণহানি হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ। প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের কতোজন বের হতে পেরেছেন আর কতোজন আগুনে পুড়ে হয়েছেন অঙ্গার তা আজ জানা যেতে পারে। কারখানার ডায়িং সেকশন-১’র সিনিয়র অপারেটর মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কারখানার নিচতলায় আগুন ধরে। পরে তা দোতলায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাঁচতলা ওই ভবনের পুরোটা জুড়েই আগুন ছড়িয়ে যায়। আসওয়াদ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানার পরিচালক এমদাদ হক জ্বলন্ত কারখানার সামনেই ছিলেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রতিশ্রমিকের পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেন। সেই সাথে লাশ দাফনের খরচ দেবেন বলেও জানান।

পুড়ছে গাজীপুরের পলমল গ্রুপের আসওয়াদ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানা। কীভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ড তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দিলরুবা খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।

গত বছরের নভেম্বরে আশুলিয়া তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক মারা যান। এরপর গত এপ্রিলে সাভারের রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিক মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রম পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র সে দেশের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক পণ্যের বিশেষ সুবিধা (জিএসপি) বাতিল করে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *