গাজায় ৫ দিনের বিমানহামলায় নিহত ১৩৩

মসজিদপুনর্বাসন কেন্দ্রেও হামলা হচ্ছে : ফিলিস্তিন

মাথাভাঙ্গা মনিটর: ইসরায়েলি বিমান হামলার পঞ্চম দিনে গাজায় মসজিদ ওপ্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছেফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।পাঁচ দিনের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩৩ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই সাধারণ মানুষ।গাজাথেকে অব্যাহত রকেট হামলা ঠেকাতে আট মিসাইলবিশিষ্ট আরেকটি আয়রন ডোম স্থাপনকরেছে ইসরায়েল। গাজা থেকে রকেট হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য সবআক্রমণ চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এদিকেযুদ্ধরত দু পক্ষকে শান্ত হতে এবং ভেঙে পড়া যুদ্ধ বিরতি চুক্তি পুনরায়কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। গতকাল শনিবার এই প্রস্তাবসর্বসম্মতভাবে পাস হয়।শনিবার বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ আরো ১৯ জননিহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে। একটি সংবাদ মাধ্যমে পাঁচদিনের অভিযানে ১২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানা গেলেও মোট নিহতের সংখ্যা ১৩৩ জন বলে অন্য একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।এসবহামলায় নারী-শিশুসহ কয়েকশ মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিমানহামলায় নিহতদের তিন-চতুর্থাংশই নিরীহ মানুষ বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলাহয়ছে।
শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধামন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও তারা গাজায় হামাসকে দমাতে হামলা অব্যাহতরাখবেন। প্রয়োজনে স্থল হামলারও হুমকি দেন তিনি।এ ঘোষণা দেয়ার কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন নেতানিয়াহু।
স্থানীয়অধিবাসীরা জানায়, ইসরায়েলি বিমান থেকে ছোড়া বোমায় গাজায় একটি মসজিদগুঁড়িয়ে গেছে। মসজিদটি জঙ্গিদের অস্ত্রের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলেইসরায়েলি সেনাদের দাবি।মসজিদটির একটি দেয়ালে ‘তোমার গোয়ার্তুমিরবিরুদ্ধে আমরাই জয়ী হবো, নেতানিয়াহু’- এ ধরনের একটি স্লোগানই জঙ্গিদেরআস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ বলে দাবি ইসরায়েলি সেনাদের।গাজাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আল মিজান অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটসজানায়, ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরো আটটি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। কেবল গাজায়ধ্বংস করা হয়েছে ৫৩৭টি বসতবাড়ি।অন্যদিকে শনিবার পর্যন্ত হামাসেররকেট হামলায় কোনো ইসরায়েলি নিহত হননি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে তৈরি আয়রনডোম এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।আয়রন ডোম থেকেস্বয়ক্রিয়ভাবে বের হওয়া মিসাইল মাঝ আকাশেই রকেটগুলোকে অকার্যকর করে বলেবিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তৈরিব্যায়বহুল এই  প্রযুক্তিটি কেবল ইসরায়েলেই রয়েছে।হামাসের অব্যাহতরকেট হামলায় ইসরায়েলে কেউ নিহত হওয়া ঘটনা না ঘটলেও আত্মরক্ষার্থে নিরাপদআশ্রয় গ্রহণ তেল আবিবের নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভাব্য রকেট হামলারসাইরেন সংকেতে প্রতিনিয়তই ইসরায়েলি নাগরিকদেরকে আশ্রয়ের জন্য স্থাপিতকংক্রিট রিঙের ভেতরে লাকাতে দেখা যায়।অজ্ঞাতনামাদের হাতে তিনইসরায়েলি কিশোর অপহৃত ও পরে নিহত হওয়ার পর ঘটনার জন্য হামাসকে দায়ী করেতেলআবিব। পরে সন্দেহভাজনদের ধরতে গাজায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় ইসরায়েলিপুলিশ। অভিযানে বেশ কয়েকজন নিহত হয়। হামাস যোদ্ধা সন্দেহে গাজার শতাধিকবাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়।এরই মধ্যে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকেপুড়িয়ে মারার পর পরিস্থিতি আরো উত্তেজনায় রূপ নেয়। এক পর্যায়ে গাজা অঞ্চলথেকে রকেট হামলা চালানো হচ্ছে অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার থেকে ফিলিস্তিনিঅধ্যুষিত এলাকায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

যুদ্ধবিরতির আহ্বান জাতিসংঘের: এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মত প্রস্তাবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে।সংস্থাটির এক বিবৃতিতে উভয় দেশের সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নিরাপত্তাপরিষদের ১৫ সদস্যের ওই যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষকে শান্ত হতে এবং ভেঙে পড়াযুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরায় ‍কার্যকরের আহ্বান জানানো হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে শনিবারের ঘটনা: শনিবার গাজা থেকে ৯০টি রকেট ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে বলে দাবি দেশটির সেনাবাহিনীর।পঞ্চমদিন নিহতদের মধ্যে হামাসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানির দুই ভাতিজা রয়েছেন।ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা সন্ত্রাসী ও তাদের কাজে ব্যবহৃতবিভিন্ন স্থাপনা, বাড়িঘর ও শীর্ষ নেতাদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে।শনিবার গাজায় একটি ভবনে বিমান হামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ছয় ব্যক্তি নিহত হয়েছেন (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ)।পূর্বগাজায় জাতিসংঘের একটি মানবিক সাহায্য কেন্দ্রে হামলায় ব্যাপকক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়, হামাস রকেট হামলা চালাতে গিয়েসেখানে আগুন ধরে। তবে তাদের ওই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।বায়তলাহিয়া নামক স্থানে একটি প্রতিবন্ধী আশ্রয় কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায়অন্তত দু নারী নিহত ও অপর চারজন আহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলে পক্ষ থেকে এনিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।উত্তর গাজায় বিমান হামলায় দু ব্যক্তি নিহত হন। জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে হামলায় এক হামাস যোদ্ধাসহ আরো তিনজন নিহত হন।গাজা বসতি এলাকায় বিমান হামলায় একটি মসজিদ গুঁড়িয়ে গেছে। গত মঙ্গলবারে হামলা শুরুর পর এটিই এধরনের প্রথম ঘটনা বলে হামাসের দাবি।শনিবার হামাসের দুটি মিসাইল নিক্ষেপন কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেইসরায়েলি সেনাদের দাবি। হামাসও ইসরায়েলের আসদোদ শহরে চারটি রকেট হামলারচালানোর দাবি করেছে।

যুদ্ধবিরতির আহ্বান: গাজায়ইসরায়েলি বিমান হামলা নিন্দা জানাতে ও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিতেজাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।কয়েক মাস আগেই দীর্ঘ বিরোধের হামাসের সঙ্গে ঐক্য করেছে তার দল ফাতাহ।ইসরায়েলে সঙ্গে ঐক্য করার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পরই হামাসের সঙ্গে বিরোধ মীমাংসায় যান প্রেসিডেন্ট আব্বাস। এছাড়াবাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের সরকারের পক্ষথেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধে জাতিসংঘকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানোহয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *