গাংনীতে শিশুরা আসক্ত হচ্ছে আঠার নেশায়

মাজেদুল হক মানিক:মেহেরপুর গাংনীতে বাড়ছে শিশু মাদকসেবীর সংখ্যা। প্রচলিত বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের সাথে সাম্প্রতিক সময়ে যোগ হয়েছে আঠা দিয়ে বিশেষ উপায়ে নেশা করার প্রবণতা। ভয়াবহ এ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে এক শ্রেণির শিশুরা। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার এ বয়সে গাংনী শহরের রহিম মিয়া (ছদ্দনাম) ভাংড়ি কুড়ানোর (টোকাই) কাজ করে। যা আয় হয় তা দিয়েই আঠা কিনে চলে বিশেষ উপায়ে নেশা। তার মতো অনেক শিশু এ নেশার আসরে যোগ দিচ্ছে। এক জনের কাছ থেকে ছড়িয়ে যাচ্ছে অন্যজনের কাছে। এমনই তথ্য পাওয়া গেলো নেশাগ্রস্থ শিশুদের কাছ থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাংনী শহরের ১০-১২টি স্থানে শিশুরা এ বিশেষ উপায়ে নেশা করে। নির্বিঘ্নেনেশা করতে পরিত্যক্ত ও নির্মানাধীন ভবন বেছে নিয়েছে তারা। বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত সমবয়সী এ শিশুরা দলবেধে বিকেলে ও রাতে নেশা করে। সহজলভ্য ও সস্তা দামের এ আঠা আকৃষ্ট করছে তাদের। গাংনী শহরে অন্তত ২০-৩০ জন শিশু আঠা দিয়ে নেশা করে। যাদের প্রত্যেকের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এদের কেউ পিতৃহীন আবার কেউ মাতৃহীন। কেউ কেউ দরিদ্রতার কারণে টোকাই হয়েছে। অন্যদিকে বখে যাওয়া অনেক শিশু পরিবারের অবাধ্য হয়ে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। তাই পারিবারিক অনুশাসন কোনো কাজেই আসছে না।

মেহেরপুর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. তাপস কুমার সরকারের কাছে এর ক্ষতিকর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, পলিথিনের ভেতরে আঠা দিয়ে নিঃশ্বাস নিলে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেবে। এর বাষ্প শরীরের জন্য খুবই বিপদজনক। ফুসফুস, চোখ, পেট, হার্ট ও কিডনীসহ শরীরের গুরুত্বপুর্ণ অঙ্গগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নারীনেত্রী নুরজাহান বেগম জানান, এ ছোট ছোট বাচ্চারা যদি নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে তাহলে আমাদের সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?সামাজিক এ অধপতন ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধের দাবি জানালেন তিনি। ধানখোলা বিএম কলেজের প্রভাষক নাজমুল হাসান বাবুল জানালেন, নেশা থেকে অনেক অপরাধের জন্ম হয়। নেশার টাকা জোগাড় করতে প্রথমে চুরি এবং পরে বড় ধরণের অপরাধের দিকে এগিয়ে যাবে ওই শিশুরা। তাই সকলে মিলেই এদের বোঝানোর পাশাপাশি প্রতিরোধও করতে হবে। তবে নেশাগ্রস্থ কয়েকজন শিশুর অভিভাবকের সাথে কথা হলে তারা জানান, আঠা দিয়ে নেশার কথা শুনে তারা শিশুদের বুঝিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে মারধরও করেছেন। কিন্তু সংঘদোষে মাঝেমাঝেই তারা জড়িয়ে পড়ছে এভয়ঙ্কর নেশার জালে। তাই তাদের কাছে কেউ যাতে আঠা বিক্রি না করে সেজন্য দোকানি ও আঠা সরবরাহকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন ভূক্তভোগী অভিভাবকরা। সমাজের রন্দ্রেরন্দ্রে পৌছে যাওয়া বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের পর এ বিশেষ নেশার ঘটনায় সচেতন অভিভাবক মহল আতঙ্কিত। আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগে প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করলেন আমতৈল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। একইসাথে সকল অভিভাবক ও সমাজের সকলের সজাগ প্রতিরোধের কথা জানালেন তিনি।

মাদকাসক্ত শিশুদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। সমাজিক ও পারিবারিকভাবে প্রতিকার না হলে শুধুমাত্র পুলিশের পক্ষে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে জানালেন মেহেরপুর পুলিশ সুপার একেএম নাহিদুল ইসলাম।

Leave a comment

Your email address will not be published.