গাংনীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : কার্বাইট দিয়ে পাকানো এক ট্রাক আম ধ্বংস

 

মাজেদুল হক মানিক: মেহেরপুর গাংনীতে কার্বাইট মিশিয়ে পাকানো এক ট্রাক আম ধ্বংস করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতরাত দশটার দিকে গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম জামাল আহম্মেদ চিৎলা গ্রামে ওই অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অভিযানের আগে পালিয়ে যান আম মালিক।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধানুযায়ী আগামী ১৫ মে থেকে জেলায় হিমসাগর জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই চিৎলা গ্রামের শফিউর রহমান টমার ছেলে হিরন মিয়া আম সংগ্রহ করে বগুড়া শহরের ফল মার্কেটে প্রেরণ করছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এক ট্রাক আম জব্দ করেন। কার্বাইট দিয়ে পাকানো নিশ্চিত হয়ে তা ট্রাকের চাপায় পিষ্ট করে ধ্বংস করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান টের পেয়ে ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায় আম মালিক ও শ্রমিকরা। ট্রাকচালক বগুড়ার সোহাগ হোসেন ও তার সহকারী রকিবুল ইসলাম আমের মালিক ও এর গন্তব্য সম্পর্কে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তথ্য প্রদান করেন। ট্রাক চালক বলেন, বগুড়ার একটি ফল মার্কেটে আমগুলো নেয়া হচ্ছিলো। কাঁচা আম হিসেবে নেয়া হচ্ছিলো। ক্যারটের মধ্যে কার্বাইট দিয়ে আম পাকানো হয়েছে তা আমাদের জানা ছিলো না। তবে মুক্তি পেয়েছেন চালক ও হেলপার। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ওই ট্রাক থেকে ১০২ ক্যারট আম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে হিমসাগর আমগুলো কার্বাইট দিয়ে পাকানো ছিলো। ক্যারট খোলার সময় আমগুলো গরম ছিলো। কার্বাইট মেশানো ফলে এভাবে গরম হয়ে পাকতে শুরু করে বলে জানান এক কৃষি কর্মকর্তা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ও এএসআই শরিফুল ইসলামসহ গাংনী থানা পুলিশের একটি দল।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, চিৎলা, নিত্যান্দপুর, পাকুড়িয়া, ঢেপা ও যুগিন্দা গ্রামের কিছু আম ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আম কার্বাইট দিয়ে পাকিয়ে বিক্রির চেষ্টা করছেন। যেহেতু দেশের কোনো জেলায় এখনো হিমসাগর জাতের আম সংগ্রহের সময় হয়নি। তাই বেশি দাম পাওয়ার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষতিকর কার্বাইট মিশাতে কুণ্ঠাবোধ করছেন না। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামান বলেন, এ অভিযানের মতো আরও অভিযান চালানো হবে। আম মরসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্বাইট কিংবা কীটনাশক ব্যবহার করে আম পাকানো রোধে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। আম বাগানগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

কার্বাইড কী: ক্যালসিয়াম কার্বাইড এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এটি এক ধরনের যৌগ যা বাতাসে বা জলীয় সংস্পর্শে এলেই উৎপন্ন করে এসিটিলিন গ্যাস। যা ফলে প্রয়োগ করলে এসিটিলিন ইথানল নামক বিষাক্ত পদার্থে রূপান্তরিত হয়।

কিভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়: কেমিকেল মিশ্রিত ফল খেলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদী নানা রকম রোগে বিশেষ করে বদহজম, পেটেরপীড়া, পাতলা পায়খানা, জন্ডিস, গ্যাস্ট্রিক, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়াসহ ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মহিলারা এর প্রভাবে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দিতে পারে। শিশুরা বিষাক্ত পদার্থের বিষক্রিয়ার ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফলের স্বাদ কেমন হয়: কার্বাইড বিক্রিয়ায় ফলকে কাঁচা থেকে পাকা অবস্থায় নিয়ে আসে। ফলটি কাঁচা, কিংবা আধাপাকা অবস্থায় থাকুক না কেন কিছু কিছু ফলের বাইরে এবং ভেতরে কেমিকেলের প্রভাব এতোটাই ঘটে যে, ভেতরে বাইরে ফলটির রঙে ও স্বাদে স্বাভাবিকভাবে পাকা ফলের মতো হয়ে যায়। কোনো কোনো ফলের বেলায় কেবল তার বাহ্যিক বর্ণ আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক পাকা ফলের মতো দৃষ্টিনন্দন টকটকে লাল, হলুদ, গোলাপি বর্ণ দেখে মানুষ আগ্রহ করে এসব কৃত্রিমভাবে পাকানো ফল পছন্দ করে কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তিনি হয়তো জানেন না যে, তিনি টাকা দিয়ে বিষ কিনলেন। এতে একদিকে যেমন ফলের পুষ্টি গুনাগুণ নষ্ট হয় অপরদিকে ফল খেতে বিস্বাদ, পানসা, শক্ত ও তেতো স্বাদযুক্ত মনে হয়।

কৃত্রিমভাবে পাকানো ফল চেনার উপায়: টমেটো, আম, পেঁপে ইত্যাদি ফলকে কৃত্রিমভাবে পাকানো হলে ফলত্বক সুষম রঙ ধারণ করে। কলার ক্ষেত্রে ফলত্বক হলুদ বর্ণের থাকলেও কাণ্ডের অংশ গাঢ় সবুজ রঙের থাকে। কার্বাইট সম্পর্কিত তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *