গাংনীতে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের : এনজিও ম্যানেজার জেলহাজতে

 

গাংনী প্রতিনিধি: মেহেরপুর গাংনী উপজেলার কড়ুইগাছি গ্রামের গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় অবশেষ মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে গৃহবধূর পিতা বাদী হয়ে আরআরএফ গাংনী শাখা ম্যানেজার জাকির হোসেনের নামে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলার আসামি হিসেবে জাকির হোসেনকে (৪২) আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। অপরদিকে গৃহবধূর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সকাল নয়টার দিকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গৃহবধূকে সাথে নিয়ে তার পরিবারের লোকজন থানায় উপস্থিত হন। গৃহবধূর পিতা বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। রোববার গভীর রাতে এনজিও কর্মকর্তা গ্রেফতারের পর থেকেই নিজেকে তিনি নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। একারণে তার পক্ষের লোকজনও বিষয়টি ষড়যন্ত্র বলে প্রমাণের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ম্যানেজার পক্ষের লোকজন ধর্ষণের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেই বসেন। কিন্তু গৃহবধূ ছিলেন অনড়। ম্যানেজারের পরিবার, ম্যানেজারের পক্ষের লোকজন ও গৃহবধূর পরিবারের লোকজনের সাথে কথাবার্তাও গৃহবধূ তার অবস্থান থেকে নড়েননি। একজন ধর্ষিতার সাথে কেন এমন বিরুপ আচরণ বলেও প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি। ধর্ষণের পক্ষে নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অভিযুক্ত ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দাবি করে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন গৃহবধূ। শেষ পর্যন্ত মীমাংসার বিষয়টি ভেস্তে যায়। গৃহবধূর পরিবারের লোকজনও অভিযুক্ত ধর্ষকের বিচার দাবি করেন।

গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, গৃহবধূর পিতার দায়ের করা মামলাটি এজাহারভুক্ত (রেকর্ড) করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি পরীক্ষার জন্য গতকাল দুপুরে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে গৃহবধূকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে ধর্ষণ মামলার আসামি হিসেবে আরআরএফ ম্যানেজার জাকির হোসেনকে মেহেরপুর আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। ডাক্তারী পরীক্ষার ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশ কর্মকর্তারা। মামলাটি তদন্ত করছেন গাংনী থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) কাফরুজ্জামান।

এ প্রসঙ্গে ওসি-তদন্ত কাফরুজ্জামান বলেন, মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। অপরদিকে ডাক্তারী পরীক্ষার ফলাফল প্রাপ্তি ছাড়া কোনো কিছুই বলতে নারাজ তিনি। তবে গাংনী থানায় গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত জাকির হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ধর্ষণের সাথে আমি জড়িত নই। ওই গৃহবধূ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ঋণের টাকা না দেয়ার ফন্দি এটেছে। তিনি অফিসে অবস্থান করার সময়ে অফিসের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ধর্ষণ তো দুরে থাক তার সাথে কোনো প্রকার খারাপ ব্যবহারও হয়নি।

গৃহবধূর অভিযোগ, আরআরএফ গাংনী শাখায় তার নামে কিছু সঞ্চয় ও ঋণ রয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় সঞ্চয়ের সাথে ঋণ সমন্বয় করার কথা বলে ম্যানেজার তাকে রোববার বিকেলে অফিসে যেতে বলেছিলেন। সে মোতাবেক তিনি বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সেখানে পৌঁছান। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তিনি গৃহবধূকে অফিসে বসিয়ে রাখেন। এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অফিসের অন্যান্য লোকজন বাইরে চলে যান। এ সময় ম্যানেজার তাকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই গৃহবধূ ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। যার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু বলেননি। পরে রাতে পরিবারের লোকজন তার অসুস্থতার বিষয়ে জানতে গিয়েই ধর্ষণের বিষয়টি টের পান। রাতেই গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় গৃহবধূকে। খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল গৃহবধূর অভিযোগ নিয়ে হলপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে।

Leave a comment

Your email address will not be published.