কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে তা না হলে শিক্ষকদের চাকরি ছাড়তে হবে

0
31

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে হুইপ ছেলুন জোয়ার্দ্দার এমপি

 

স্টাফ রিপোর্টার: বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্লাসে পড়ালেখা করানোর চেয়ে কোচিং বাণিজ্যের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। যারা কোচিং করান সেই সকল শিক্ষকদের আমি বলতে চাই, হয় আপনারা কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করুন তা না হলে বিদ্যালয় ত্যাগ করুন। একই সাথে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আপনার সন্তানকে সময়-অসময়ে কোচিঙে যেতে বারণ করুন, তা না হলে আপনার সন্তানকে বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র নিয়ে যান। আরো অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়। উপরোক্ত কথাগুলো বলেন জাতীয় সংসদের হুইপ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। তিনি গতকাল বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পড়ালেখার এক ঘেয়েমিতা ও মনকে সতেজ রাখতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। যদিও শান্তিপূর্ণ ও বিনোদনমূলক খেলাধুলা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রধান অতিথি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শুধু পড়ালেখা নয়, খেলাধুলা করার জন্যও তাদের সময় করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মেয়েরা আজ আর পিছিয়ে নেই। আজকে সারা পৃথিবীতে মেয়েদের জাগরণ হয়েছে। মেয়েরা আজ কোনো কাজে পিছিয়ে নেই। এ চলার পথটা রোধ করার জন্য কিছু ধর্মান্ধ তালেবান-আল-কায়েদারা ধর্মের দোহাই দিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখার চেষ্টা করছে। আপনারা সবাই জানেন পাকিস্তানের একটি স্কুলের মেয়ে মালালাকে গুলি করেছিলো ওই ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে। সে আজ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে।

মেয়েরাও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। সেজন্য হতে হবে সাহসী, হতে হবে প্রতিবাদী। যেখানে অন্যায় সেখানে প্রতিবাদ করতে হবে। রাস্তায় তোমাদেরকে যারা ইভটিজিং করে তার প্রতিবাদ করো দেখবে তারা আর কেউ তোমার দিকে তাকাতে সাহস পাবে না। আজ মেয়েরা ডিসি-ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে পাইলট, সেনাবাহিনী, পুলিশবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে। মেয়েরা সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং ঘুমটা পরে ঘরে বসে না থেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজ, সমাজের মানুষ, দেশ ও জাতিকে কিছু দেবো সে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

‘সুস্থ দেহ সুন্দর মন, সফল হোক’ ক্রীড়াঙ্গন এ স্লোগানকে সামনে রেখে গত ফেব্রুয়ারিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ ক্রীড়ার পুরস্কার বিতরণ গতকাল বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান, জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান ও অ্যাড. শামশুজ্জোহা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ এসএম ইসরাফিল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক হযরত, ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর-ই-আলম মোর্শেদা, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইলা হক, মৌসুফা বেগম, বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষকগণসহ আমন্ত্রিত অতিথিগণ। পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। কোরআন তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফুজা তামান্না মীম ও গীতাপাঠ করেন রিয়াঙ্কা বিশ্বাস। আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুল হোসেন উজ্জ্বল।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নৃত্য ও সঙ্গীতের মুর্ছনায় অতিথিদের অভিভূত করে তোলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতাসহ প্রভাতী ও দিবা শাখার ৩২টি ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া হাসান বর্ষা, নিগার নিশাত নিশু, আনিকা আনজুম প্রমা ও মেনোকা আফরিন অবনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here