কাদের মোল্লার দণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল গণজাগরণ মঞ্চ

স্টাফ রিপোর্টার: গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি প্রতিবাদী সমাবেশের ইভেন্ট খোলে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক। এ আহবানে সাড়া দিয়ে ওইদিন বিকাল তিনটায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে জড়ো হন জনাত্রিশেক তরুণ। একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২’র যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদ জানান তারা। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের ব্যানারে বিকাল চারটার পর এক সমাবেশ করলেন তারা। এরপর সময় যতো গড়ালো এ তরুণদের সাথে যোগ দিল বিভিন্ন পেশার তরুণরা। দাবি আদায়ে ওইদিন বিকালে শাহবাগে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচি রাতে পরিণত হয় সড়ক অবরোধে। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান তুলে লক্ষ্য কণ্ঠ। আন্দোলন শুরু হওয়ার চার দিন পর ৮ ফেব্রুয়ারি তরুণদের এ অবরোধ-অবস্থান গণজাগরণ মঞ্চ নাম ধারণ করে।

মঞ্চের এ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় ট্রাইব্যুনালের আইন নিয়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনে আদালতের দণ্ডাদেশের পর আসামিপক্ষের আপিলের সুযোগ থাকলেও বাদী বা সরকারের আপিলের সুযোগ ছিলো না। আইনের এ মারাত্মক ত্রুটি ও অসম সুযোগ পরিবর্তন করার দাবি জানায় গণজাগরণ মঞ্চ। রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি এজন্য তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। এরপর সরকারও এ আইন সংশোধনে উদ্যোগী হয়। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের সুযোগ রেখে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) সংশোধন বিল ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এ আইন পাস হওয়ায় কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এর ধারাবাহিকতায় গতকাল আপিল বিভাগের ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে একে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম প্রধান সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। রায় জানার পর শাহবাগে উল্লাস প্রকাশ করেছে উপস্থিত তরুণ-জনতা। অনুষ্ঠিত হয়েছে আনন্দ সমাবেশ।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, আগে ট্রাইব্যুনালের দণ্ডাদেশের পর সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করার সুযোগ ছিলো না। কিন্তু আমাদের আন্দোলন-দাবিরমুখে আইন সংশোধন করা হয়েছে। তখন এটিকে আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় বলেছিলাম। এখন তা প্রমাণিত হলো।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। শুধু রায় হলেই হবে না। এখন রায় কার্যকর করতে হবে। গণজাগরণ মঞ্চের আনন্দ প্রকাশ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায়কে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চ। তবে বৃষ্টির কারণে পরে রাতের কর্মসূচি স্থগিত করে। গতকাল সকালে পুনরায় অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে উপস্থিতি কম থাকলেও রায়ের খবরে উপস্থিত তরুণ-জনতা উল্লাস প্রকাশ করে। বিকালে বিজয় মিছিল এবং সমাবেশ করে মঞ্চ। জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ সমাবেশে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এসেও জড়ো হন। তারা যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবিতে শ্লোগান দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published.