কবিরাজি চিকিৎসার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ 

দামুড়হুদা বিষ্ণুপুরের সেই কুয়েতি জিন ভরকরা নারী কবিরাজ রোজিনা আবারও বেপরোয়া

দামুড়হুদা/জুড়ানপুর প্রতিনিধি: দামুড়হুদার বিষ্ণুপুরের কুয়েতি জিন ভরকরা সেই নারী কবিরাজ রোজিনা খাতুন আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। নারী কবিরাজ রোজিনা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কবিরাজি চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। ওই ভুয়া কবিরাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী মহল।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর কবরস্থানপাড়ার আব্দুল জলিলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন (৩৮) এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি চিকিৎসার নামে জিনের অজুহাত দেখিয়ে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন ভুয়া চিকিৎসা। রোগ সারিয়ে দেয়ার নাম করে এলাকার নিরীহ লোকজনকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। ওই কবিরাজের ওষুধ খেয়ে ২০১৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যায় তারই প্রতিবেশী দিনমজুর হদুর ছেলে আনছার আলী (৪৮)। ওই ঘটনায় রোজিনার নামে আদালতে মামলাও হয়। যা এখনও বিচারাধীন। ওই সময় কবিরাজ রোজিনা গর্ভবতী থাকায় এবং কবিরাজি চিকিৎসা ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে আদালতের বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন। কবিরাজ রোজিনা আদালতে বিচারকের কাছে কবিরাজি চিকিৎসা ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরার পরপরই আবারও দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন কবিরাজি চিকিৎসা।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেছেন, ওই কুয়েতি জিন ভরকরা ভণ্ড কবিরাজ রোজিনা চিকিৎসার নাম করে এলাকার সহজ সরল নিরীহ লোকজনকে ঠকিয়ে আসছেন। জিন ভরকরার বিষয়টি অহেতুক ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়। তাছাড়া তার কবিরাজি চিকিৎসার কোনো বৈধতা নেই। অভিযোগকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন এলাকার এক প্রভাবশালী কুচক্রী মহল তার কাছ থেকে টাকা খেয়ে কবিরাজি কাজে সহযোগিতা করে আসছে। জুড়ানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমার চুরি হয়ে যাওয়া চল্লিশ হাজার টাকা জিন দিয়ে এনে দেবে বলেও আমার সাথে প্রতারণা করেছেন রোজিনা। তার বানিয়ে দেয়া ওষুধ খেয়ে আনছারের মতো যেন আর কাউকে মৃত্যুবরণ করতে না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী মহল।

এ বিষয়ে কবিরাজ রোজিনা খাতুন বলেছেন, আমি বিগত ১৪ বছর যাবত কবিরাজি চিকিৎসা করছি। প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার আমার শরীরে জিন ভর করে। আমি চিকিৎসা না দিলে জিন আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ওই সময় রোগী আনছার আলী মারা না গেলে আমার কিছুই হতো না। তাছাড়া আমি স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশকে টাকা দিই। বিষ্ণুপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই নুহুবুল টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়েছিলাম। টাকা নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। পরে বিষয়টি আমার কানে আসার সাথে সাথে ইউপি মেম্বার মোজাফফর হোসেনকে সাথে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। তখন ওই নারী কবিরাজের স্বামী জিন ভরকরার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

 

Leave a comment

Your email address will not be published.