এবার পোড়ানো হলো বিপুল পরিমাণ নানা প্রকারের ইনজেকশন ঠুশ ঠাশ ঢুশ ভুশ শব্দে কৌতূহল এবং

খাইরুজ্জামান সেতু/কামরুজ্জামান বেল্টু: শীতের ম্রিয়মান সূর্যটা তখন মাথার ওপর থেকে সবে পশ্চিমে হেলতে শুরু করেছে। খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিনের ঘড়ির কাঁটা একটা ছুঁই ছুঁই। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পেছনে হরদম ঠুশ ঠাশ ঢুশ ভুশ শব্দ। পথচারীসহ স্থানীয়দের কৌতূহল দৃষ্টি ধোয়ার দিকে। কী হচ্ছে ওখানে? ব্যবহার অনুপযোগী ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে। ক’দিন পর পর হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ানো হয়? এ প্রশ্নের জবাব জানতে ক্ষুব্ধ অনেকেই ছুটলেন সিভিল সার্জনের দফতরে। তখন তিনি কার্যালয়ে নেই। এ নিয়ে আলোচনা শেষ হতে না হতে আবারও হাসপাতালে জন্ম নেয় নতুন ঘটনা। রান্নাঘরের রাখা মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু পথ্যতে ধরে যায় আগুন। সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেন। পানির তোড়ে রান্না ঘরে থাকা বেশ কিছু চাল ভিজে বিনষ্ট হয়।

চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধপত্র গত ১৮ ডিসেম্বর ধ্বংস করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অধিকাংশেরই ওষুধ কিনতে হয় বাইরে থেকে, অথচ বছর শেষে বিপুল পরিমাণ ওষুধপত্র মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তা ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসের সময় উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও প্রশ্ন তোলেন, অতো ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হলো কীভাবে? মেয়াদ শেষের অল্প দিন আগে সরবরাহ করা হয়েছে বলেই রোগীদের দেয়ার আগেই মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে জানানো হলেও জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়। এরই ১২ দিনের মাথায় নতুন বছরের শুরুর দিকে এক ভ্যানচালক সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ ইনজেকশন পোড়াতে থাকেন। ইনজেকশনের শিশি আগুনের তাপে ফেটে ঠুশ, ঠাশ ঢুশ ভুশ শব্দ করতে থাকে। ভ্যানচালক প্রথমে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ইনজেকশনগুলো পোড়াতে দেয়া হয়েছে। তাহলে কর্মকর্তারা এখানে নেই কেন? আগুনের পাশে পড়ে থাকা কয়েক অ্যাম্পুল ইনজেকশন কুড়িয়ে নিয়ে দেখা যায়, মেয়াদ শেষ হতে কোনোটির এখনও বাকি তিন মাস, কোনো কোনোটির ছয় মাস।

ভ্যানচালক পরে অবশ্য বলেন, এসব ইনজেকশনের মুখ খোলার পর ব্যবহার না হওয়ার কারণেই তা ফেলে রাখা হয়েছে। তাহলে নির্ধারিত কমিটি কেন ১৮ ডিসেম্বর ওষুধপত্র ধ্বংসের দিন এগুলো ধ্বংসের আওতায় নিলো না? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য কয়েক দফা সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। ইনজেকশনগুলো পোড়ানোর পর মাটি চাপা দেয়া হয়। এ নিয়ে হাসপাতাল এলাকার অনেকেই আলোচনা নিয়ে মেতে থাকেন। আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতালের রান্নাঘরে আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে যান। খবর দেন ফায়ার স্টেশনে। লালগাড়ি নিয়ে ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হন। আগুন নেভান। সেখানে দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ক্যাথেটার, মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন, হেক্সাসলের বোতলসহ রান্নার উপকরণ। রান্নাঘরে এসব কেন? নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বললেন, এক সেবিকা এসব রেখেছেন। অপরজন বললেন, মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব পরে স্টোর থেকে কৌশলে বদলানো হয়। তাই নাকি? অবশ্য এ প্রশ্নেরও জবাব দায়িত্বশীল কারো নিকট থেকে নেয়া যায়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *