এবার ট্রাকের ধাক্কায় তছনছ ট্রেনের বগি

হালসা স্টেশনের অদূরে বালি নামানোর সময় ট্রাক পেছানোর কারণে বিপত্তি

 

আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মঈন উদ্দিনসহ আহত কমপক্ষে ৬

স্টাফ রিপোর্টার: ট্রাকের ধাক্কায় খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের একটি বগি তুবড়ে ৬ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে হালসা স্টেশনের দক্ষিণপ্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকটির চালক-হেলপার আত্মগোপন করেছে।

এতোদিন শুনেছি ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাক তছনছ হয়েছে। এবার দেখলাম ট্রাকের ধাক্কায় ট্রেনের বগি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ট্রেনের যাত্রী আহত হয়। এ মন্তব্য করে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, রাজশাহী থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি হালসা স্টেশন অতিক্রমের পর পরই সেখানে বালি নামানো ট্রাক (কুস্টিয়া ট ১১- ০৯০৭) পিছিয়ে ট্রেনের একটি বগিতে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে বগিটির একাংশ তুবড়ে যায়। ৬ যাত্রী আহত হয়। ট্রাকটি হালসা স্টেশনের পাশের নির্মাণ কাজের জন্য বালি এনে আনলোড করছিলো। ট্রেনটি যখন দ্রুত গতিতে খুলনার দিকে ছুটছিলো তখন কেন ট্রাকটি পিছিয়ে বগিতে ধাক্কা মেরেছে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। ট্রাকচালকও পালিয়েছে।

হালসা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গুরুতর আহত যাত্রীরা হলেন, আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্দা মঈন উদ্দিন (৬৫), জীবননগরের উথলী ইউনিয়নের সোনাডাঙ্গা গ্রামের তোফাজ্জেলের মেয়ে রাহি খাতুন (৩০), আলমডাঙ্গা হাউসপুরের মৃত জালালের ছেলে রেলকর্মচারী নিজাম উদ্দিন (৬০), মিরপুর থানার নতুন সুতাইলের মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম (৬৫) ও খুলনার রেলকর্মচারী ইলিয়াস হোসেন (৫১)। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ীতে করে আহতদের দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। জানা যায়, জীবননগরের উথুলি ইউনিয়নের সোনাডাঙ্গা গ্রামের ট্রেন যাত্রী রাহি খাতুনের দুটি পা ভেঙ্গে কুচকে গেছে। তার সমস্ত শরীরের জামা কাপড় রক্তে ভেজা। গুরুতর আহত অন্য যাত্রী আলমডাঙ্গা কালিদাসপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্দা মঈন উদ্দিনের ডান পায়ের হাটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত মাংস উঠে গেছে এবং মুখের বাম পাশ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে।

হালসা রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পার্শ্বে রেলস্টেশনের ডিজিটাল সিগনাল নিয়ন্ত্রনভবণ নির্মাণ করার জন্য রেলওয়ে ঘেষে যত্রতত্র ট্রাক থামিয়ে নির্মাণসামগ্রী লোড-আনলোড করা হচ্ছে। হালসা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, রেলওয়ের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রভাব খাটিয়ে বড় বড় ট্রাক ঠেকিয়ে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় লোড-আনলোড কাজ চলিয়ে যাচ্ছে। দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন স্থানীয় প্রশাসনকে ট্রাকটি জব্দ করার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি বলেন, তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার পর পর সেখানে ছুটে যান মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান, পোড়াদহ জিআরপি থানার ওসি এনামুল হক, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী জালাল আহমেদ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *