ইসির চিঠি প্রস্তুত : শিগগিরই নামছে সেনা

স্টাফ রিপোর্টার: বিরাজমান সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চিঠির প্রেক্ষিতে যে কোনো সময়ে নির্বাচনী মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী। এ লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চিঠি পাঠাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ চিঠির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তবে চিঠি বৃহস্পতিবারই পাঠানো হয়েছে কি-না তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নির্বাচন প্রতিহত করা ও জাতীয় পার্টির নির্বাচন বয়কট করার ঘোষণা সত্ত্বেও নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এর জন্য একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই তাদের নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্ত করতে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া করা হয়। বৃহস্পতিবার তা প্রেরণ করা সম্ভব না হলে রোববার তা পাঠানো হতে পারে বলে জানান তিনি।

শনিবার থেকে আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে বিরোধী জোট। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দ্রুত সেনা মোতায়েন করতে কমিশন থেকে চিঠি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। রাজনৈতিক এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ২৫ নভেম্বর তফশিল ঘোষণার পরপরই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলো কমিশন। এর অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ সব গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সাথে জরুরি ভিত্তিতে ২৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। ওই বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে কমিশনকে জানানো হয়, সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। নির্বাচনের এতো আগে মাঠে নামলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি ও শ্রদ্ধা কাজ করে তা নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসজুড়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ব্যারাকের বাইরে শীতকালীন মহড়ায় অংশ নিয়ে থাকেন। তাই কমিশন থেকে যখনই আমাদের (সশস্ত্র বাহিনী) তলব করবে ওই সময়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অংশ নেব। পরে আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এ বাহিনীকে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তড়িঘড়ি করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামাতে আগ্রহী হয়ে ওঠে কমিশন। যেকোনো সময় তাদের মাঠে নামানো হতে পারে। এর জন্য সশস্ত্র বিভাগকে প্রস্তুত থাকতে নির্বাচন কমিশন চিঠি পাঠাচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী ও রক্ষীবাহিনী নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ, আনসার ও বিডিআরের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং কিছু এলাকায় নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৯১ সালের মতো ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯/১৩০ ধারা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ইন্সট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু সিভিল পাওয়ার অনুযায়ী সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published.