আলমডাঙ্গার মাজু-বকশিপুর সড়কে ডাকাতির ঘটনায় জেলহাজতে ১

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গার মাজু-বকশিপুর সড়কে ডাকাতির ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একজনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গার মাজু-বকশিপুর সড়কে গাছ ফেলে সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদল গরুব্যবসায়ীদের পিটিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করে। এরা হলো- কালিদাসপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে হারুন, একই গ্রামের মৃত বাবু সোনার ছেলে তৌহিদ, বকশিপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ঘরজামাইকামাল হোসেন ও মাজু গ্রামের আহসান আলীর ছেলে সাইদুর রহমান। এদের মধ্যে দুজন লাটাহাম্বার চালক সাইদুর ও হারুন। ডাকাতির শিকার গরুব্যবসায়ীরা এ দুজনের লাটাহাম্বার ভাড়া করতো। আটকের পর ৪ জনকে পুলিশ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৩ জনকে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। এরা হলেন পাইকপাড়া গ্রামের হারুন, একই গ্রামের তৌহিদ ও মাজু গ্রামের সাইদুর রহমান। অন্যদিকে, একই সাথে আটক বকশিপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ঘরজামাই কামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল আদালতে সোপর্দ করে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ঘরজামাই কামালের নিকট ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত কিছু গুরুপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া জেলার বালিয়াপাড়া পশুহাটে গরু বিক্রি করে গত শনিবার লাটাহাম্বারে বাড়ি ফিরছিলেন আলমডাঙ্গার বকশিপুর গ্রামের গরুব্যবসায়ী মস্ত আলীর ছেলে ইমাদুল হক (৪০), খেদ আলী ম-লের ছেলে সোমা চাঁদ (৪১), বাদলের ছেলে জমজম আলী (৩৮), নিকবার আলীর ছেলে আরিফুল হক (৩৫) ও আজিবর রহমানের ছেলে শামসুল হক (২৬)। রাত পৌনে ৯টার দিকে মাজু-বকশিপুর মাঠের ভেতর পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদল সড়কের ওপর গাছ ফেলে তাদের লাটাহাম্বার আটকে দেয়। ৫ গরুব্যবসায়ীর মধ্যে ৩ জনকে পিটিয়ে টাকা কেড়ে নেয়। এদের মধ্যে ইমাদুল হকের নিকট থেকে সাড়ে ৪ লাখ, সোমা চাঁদের নিকট থেকে ৫০ হাজার ও শামসুল হকের নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। এই ৩ জন গরুব্যবসায়ীকে হাতকরাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। সে সময় সুযোগ বুঝে বাকি দুজন গরুব্যবসায়ী দৌড়ে পালায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *