আলমডাঙ্গার জামজামি-কুষ্টিয়া সড়কে আলমসাধু-করিমনের দু চালকের পাল্লা


আলমসাধু উল্টে ঘোষবিলার পান ব্যবসায়ী নিহত : গুরুতর আহত ৮

জামজামি প্রতিনিধি: আলমসাধু দুর্ঘটনায় আলমডাঙ্গা ঘোষবিলার ক্ষুদ্র পানব্যবসায়ী আদম আলী (৪৫) নিহত হয়েছেন। শ্যালোইঞ্জিন চালিত অবৈধ দুটি যানের দু চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একই দুর্ঘটনায়  ৮ জন আহত হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তকাদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামজামি বাজার- কুষ্টিয়া সড়কের হাতিভাঙ্গা নামকস্থানে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের মৃত আকবার আলীর ছেলে আদম আলী (৪৫) ক্ষুদ্র পানব্যবসায়ী। তিনি পান কিনতে বাড়ি থেকে বের হন আলমসাধুযোগে ইবি’র বিত্তিপাড়া বাজারের উদ্দেশে। আসাননগরের আলমসাধু চালক সাইদুল পান ও যাত্রীভর্তি আলমসাধু বেপরোয়া গতিতে চালাতে শুরু করে। আসাননগর বাজারে পানবহন করা করিমন চালিয়ে একই গ্রামের নিজাম ফকিরের ছেলে চালক মিন্টুও গতি বাড়িয়ে দেন। প্রতিযোগিতা চলে দু চালকের মধ্যে। ঘটে দুর্ঘটনা। হাতিভাঙ্গা গ্রামের শ্মশানঘাট সংলগ্ন সড়কে একটি অপরটিকে অতিক্রম করতে গেলে দুটি অবৈধ যানের সংঘর্ষ হয়। উল্টে পড়ে গুরুতর জখম হন ঘোষবিলা গ্রামের আদম আলীসহ ১০ পানব্যবসায়ী। মুমূর্ষু অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আদম আলি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় অপর ব্যবসায়ী ইবি’র নৃসিংহপুরের  মৃত ওহাব মণ্ডলের ছেলে কুদ্দুস আলীকে (৪০) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। আহত অন্যরা হলেন- নৃসিংহপুরের মৃত সোবাহান মণ্ডলের ছেলে দাউদ আলী (৫০), একই গ্রামের নাসির উদ্দিন, ফকিরপাড়ার রোজাফ মুন্সীর ছেলে শুকালে (৩৫), আলমডাঙ্গা ঘোষবিলার জামাল উদ্দিনের ছেলে সাহেব আলীসহ (২৮) অন্তত ১০জন। দুর্ঘটনার পর দু চালক কৌশলে সটকে পড়ে। গতকাল সন্ধ্যায় লাশ নিজ গ্রামে নেয়া হলে নিকটজনদের আহাজারিতে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহত আদম আলীর রয়েছে স্ত্রী ও তিন ছেলে। রাত সাড়ে ৮টায় নিহতের দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।