আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি :এসকে সিনহা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ঝড় তো আপনারাই তুলছেন। আমরা কি ঝড় ওঠার মতো কিছু বলেছি? এত ঝড় ওঠার পরেও আমরা (সুপ্রিম কোর্ট) যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছি।’ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও এর পর্যবেক্ষণের অব্যাহত সমালোচনা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি গতকাল রোববার এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনো ঝড় ওঠেনি। বিচার বিভাগ ও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করার ক্ষেত্রে পরিপক্কতা দরকার।’

নিন্ম আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করে আদালতে দাখিল করতে গত ৮ আগস্ট সরকারকে সময় দিয়েছিলো সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সে অনুযায়ী গতকাল আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে ‘বংলাদেশ বনাম মাসদার হোসেন এবং অন্যান্য’ মামলাটি ছিলো। সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ বিচারপতির বেঞ্চে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। মধ্যে থাকা প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তাদেরও ‘ধৈর্য ধরতে’ হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ কী বক্তব্য দিয়েছেন, আমি জানি না। কোনো কিছু না জেনে অন্ধকারে ঢিল ছুড়বো? আমি বক্তব্যটা আগে জেনে নিই। মাথা ঠাণ্ডা রেখে কথা বলা উচিত্, কাজ করা উচিত।’ দেশজুড়ে বন্যার কথা তুলে ধরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘এই অবস্থায় আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ঠাণ্ডা মাথায় কমেন্ট করা উচিত।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ (রায়ের) নিয়ে আমাদের দলের একটা অবস্থান আছে। সেটা প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করায় অন্যায়ের কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আর তিনি কি বলেছেন, তার ওপরে কেউ চাপ সৃষ্টি করছে? তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কি চাপ দেয়ার লোক, রাষ্ট্রপতি কি কারও চাপে বিভ্রান্ত হবেন? আমরা প্রধান বিচারপতির সাথে এই রায় নিয়ে কথা বলতে পারি। রাষ্ট্রপতির সাথে কথা বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারি- এতে দোষের কী আমি তো জানি না।’

বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব তো ধান ভানতে গিয়ে শিবের গীত গাইছেন। আমি বললাম যা, তিনি উত্তর দিলেন উল্টোটা। আমি বললাম যে প্রধান বিচারপতি যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সেখানে জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে এবং উড়ে এসে জুড়ে বসা ব্যানানা রিপাবলিক করার বিষয়ে উল্লেখ আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (ফখরুল) বলেছি, এটা নিয়ে আপনারা নীরব কেন? তিনি বলছেন, বিএনপি অবৈধ হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ! আপনারাই বলুন উত্তরটা কি সঠিক দিয়েছেন উনি? প্রশ্ন করলাম একটা, উনি সোজাপথে সঠিক উত্তর না দিয়ে ঘুর পথে বাঁকা উত্তর দিলেন।’

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *