অবৈধ গর্ভপাত নিয়ে গাংনীতে স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি মামলা

 

 

গাংনী প্রতিনিধি: আবারো আলোচনায় এসেছে মেহেরপুরের গাংনীর স্বঘোষিত ডাক্তার মিনির বহুল আলোচিত মিনি ক্লিনিক। গৃহবধূ ও যুবতীদের অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর নিরাপদ ও বিশ্বস্ত স্থান হিসেবে পরিচিত এ ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন যাবত গর্ভপাত ঘটিয়ে আলোচনায় উঠে আসে। এবার জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো নিয়ে পাল্টপাল্টি মামলা করেছেন গাংনীর হিজলবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ রুমা ও তার শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন। আদালতের আদেশে বিষয়টি তদন্ত নেমেছেন মেহেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী। গতকাল রোববার সকালে তিনি প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেন।

সূত্র জানায়, গাংনীর হিজলবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে রুমা খাতুনের সাথে একই গ্রামের মাহাতাব আলীর ছেলে মামুন রেজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। কিছু দিন আগে রুমা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি রুমাকে গাংনীর আলোচিত মিনি ক্লিনিকে এনে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটান মামুন রেজা। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে ভর্তি করা হয় একটি ক্লিনিকে। এ ঘটনায় রুমা বাদী হয়ে মামুন রেজা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে মেহেরপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে রুমাকে তার পিতা মাতা কৌশলে গাংনীর মিনি ক্লিনিকে এনে গর্ভপাত ঘটিয়েছে মর্মে আদালতে অপর একটি মামলা ঠুঁকে দেন রুমার শ্বশুর হিজলবড়িয়া গ্রামের মাহাতাব উদ্দিন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রুমার পিতা-মাতা তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি না পাঠানোর জন্য কৌশলে গর্ভপাত ঘটায়। মামুন রেজার পিতা ও স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি মামলা দুটি আদালত আমলে নিয়ে মেহেরপুর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলীকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী জানান, আদালতের নির্দেশে একটি মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। মামলায় যেহেতু মিনি ক্লিনিকের কথাটি এসেছে তাই সেখানে তদন্তের জন্য যাওয়া হয়। এক্ষেত্রে অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। মিনি ক্লিনিকে অবৈধ গর্ভপাত ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ পেয়েছেন তিনি।

এদিকে মিনি ক্লিনিক নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, বিগত ১৫/২০ বছর যাবত মিনি হাসপাতালের পেছনে একটি বাসায় দেদারছে অবৈধ গর্ভপাত ঘটিয়ে আসছে। হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ এ কাজে জড়িত। প্রতিদিন কয়েকজন নারী অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিজন কাস্টমারের জন্য তাদেরকে একশ’ টাকা থেকে দেড়শ টাকা দেন মিনি। গর্ভপাত ঘটাতে নেয়া হয় দু থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্বঘোষিত এই মিনি ক্লিনিকের মিনি খাতুনের অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান সচেতনমহল।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল আমিন জানান, মিনি ক্লিনিকের অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, নিজ বাড়ির দেয়ালে লেখা রয়েছে ডা. মিনি। স্থানীয়ভাবে মিনি ক্লিনিক নামে পরিচিত। তবে এখানে অন্যকোনো রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়না। শুধুমাত্র গর্ভপাত ঘটানো হয়। তাছাড়া চিকিৎসা বিদ্যার কোনো ডিগ্রি ছাড়াই মিনি নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করেন। এটিও অবৈধ বলে জানান গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক।

Leave a comment

Your email address will not be published.