অপহরণের নাটক সাজিয়ে পিতার কাছে মুক্তিপণ দাবি : বেকায়দায় কিশোর

 

 

আন্দুলবাড়িয়া প্রতিনিধি: বয়স আর কতো। ১৪-১৫ হবে। ক্লাস নাইনের ছাত্র। নিজেই অপহরণ নাটক সাজিয়ে পিতার কাছে মুক্তিপণের ১ লাখ টাকা চেয়ে গ্যাঁড়াকলে পড়েছে আবু সাঈদ। ছেলে অপহরণের কথা শুনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, ছোটাছুটি আর আতঙ্ক বেড়ে যায় তেমনি প্রশাসন উদ্ধারে রাতভর তটস্থ হয়ে পড়ে। অবশেষে গভীর রাতে অপহরণ নাটকের অবসান ঘটে। উদ্ধারের পর খলনায়ক সাঈদকে হাতে পেয়েই পরিবারের সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক কেটে যায়। ফেরে স্বস্তি।

এলাকাবাসী ও পুলিশসূত্রে জানা গেছে, জীবননগরের আন্দুলবাড়িয়া মীরপাড়ার রুকু মোল্লার ছেলে আবু সাঈদ আন্দুলবাড়িয়া বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র। সে গত রোববার স্থানীয় বাজার থেকে মোবাইলফোনের নতুন নম্বরের একটি সিম কেনে। সন্ধ্যার পর সে বাড়ি থেকে লাপাত্তা হয়ে পড়ে। রাতে তার পিতা রুকু মোল্লার নিকট আবু সাঈদের নিকটতম এক বন্ধু ওই নতুন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বলে, আমি শয়তানের বড় ভাই বলছি। সালাম কালাম দিয়ে লাভ হবে না। তোর ছেলে সাঈদকে চাঁনপুর রেললাইনের নিকট থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ছেলেকে যদি বাঁচাতে চাস তবে এক্ষুণি ১ লাখ টাকা দে। রাতের মধ্যে টাকা না দিলে ছেলেকে ফিরে পাবিনে। একথা বলে ফোন কেটে দেয়। ছেলে অপহরণের কথা শুনে পিতা-মাতা ও স্বজনদের মাঝে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠাসহ আতঙ্ক বেড়ে যায়।ছোটাছুটি বেড়ে যায় সকলের। রাতেই পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়। পুলিশ সাঈদকে উদ্ধারে তটস্থ হয়ে পড়ে। গভীররাতে অফিসার ইনচার্জ এসএম ইকবাল আহম্মদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আন্দুলবাড়িয়া বাজারে অবস্থান করাকালে উপস্থিত মোবাইলসিম বিক্রেতা আলা মোল্লার ছেলে হালিম জানায়, আজই এ নম্বরের সিম রুকু মোল্লার ছেলে আবু সাঈদ তুলেছে। এ সময় উপস্থিত সকলের মাঝে কৌতূহল দেখা দেয়। তথ্য অনুসন্ধান নিয়ে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ভোরে কোটচাঁদপুর স্টেশন প্লাটফর্ম থেকে খলনায়ক আবু সাঈদ ও তার বন্ধু বিপুলকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকালে বন্ধু বিপুল হোসেন উদ্ধারকারীদের নিকট অকপটে স্বীকার করে বলে, আবু সাঈদ ল্যাপটপ কেনার জন্য আমাকে দিয়ে অপহরণ নাটক সাজায়। অবশেষে রঙ মেখে সঙ সেজে নিজ ছেলের রাতভর অভিনয় করা নাটকের গতকাল ভোরে অবসান ঘটে।

সূত্র জানায়, আবু সাঈদ এ ধরনের কয়েকটি নাটক সাজিয়ে ও অভিনয় করে তার সরলসোজা পিতার নিকট ইতঃপূর্বে নগদ টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *