অতিক্রমের সময় ট্রাক্টরের ফলায় ধাক্কা : আছড়ে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী ফয়সাল নিহত

দর্শনা থেকে মোটরসাইকেলযোগে তিন বন্ধু চুয়াডাঙ্গায় ফেরার পথে দামুড়হুদায় দুর্ঘটনার কবলে

 

স্টাফ রিপোর্টার: দামুড়হুদায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ওমর আলীর ছেলে ফয়সাল কবীর (৩২)। আহত হয়েছে মোটরসাইকেলে থাকা সিনেমহালপাড়ার জনি সাদেক ও তাদের বন্ধু হুমায়ুন কবীর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের অদূরবর্তী ফিরিঙ স্টেশনের নিকট এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে, দামুড়হুদামুখি ফলাযুক্ত একটি বড় ট্রাক্টরকে অতিক্রমের সময় ফলায় বেধে আছড়ে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা। ফয়সাল কবীরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শুরুতেই সে মারা যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত জনি সাদেককে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হুমায়ুন কবীর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

দর্শনা থেকে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়ে দুর্ঘটনায় নিহত ফয়সাল কবীর চুয়াডাঙ্গা সিনেমহালপাড়ার খন্দকার আব্দুর রশিদ হিরার জামাই। তার লাশ আজ বুধবার সকাল ১০টায় তার নিজ গ্রাম খুলনার ফুলতলায় দাফন কাজ সম্পন্ন করা হবে। ফয়সাল কবিরের রয়েছে এক ছেলে। ৪ বছর আগে ফয়াসালের সাথে খন্দকার আব্দুর রশিদ হিরার বড় মেয়ে উম্মে উমায়াই আশার বিয়ে হয়। এদের রয়েছে একমাত্র ছেলে লিখন। তার বয়স এখনো দু বছর পূর্ণ হয়নি। এরই মাঝে লিখন হারালো পিতাকে। স্বামী হারিয়ে স্ত্রী যেমন শোকে কাতর, তেমনই ছেলে হারিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের চুয়াডাঙ্গার প্রধান ওমর আলীও দিশেহারা। প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে সিনেমাহলপাড়াতেই বসবাস করেন।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ওমর আলী চুয়াডাঙ্গা সিনেমহালপড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। তার ছেলে ফয়সাল কবীর পাখির ব্যবসা করলেও পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, সে ঢাকার একটি ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারে অধ্যয়নরত ছিলো। একইপাড়ার আবেদ উদ্দীনের ছেলে জনি সাদেক ও আলমডাঙ্গার হুমায়ুন তার বন্ধু। এরা গতকাল দর্শনায় যায়। সেখান থেকে ইয়াহামা এফজেড এক মোটরসাইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে ফিলিং স্টেশনের নিকট সামনের লাঙ্গলের ফলাযুক্ত বড় ট্রাক্টর অতিক্রম করতে গেলে ফলায় বেধে আছড়ে পড়ে। ফয়সাল কবীরের মাথা থেতলে যায়। শরীরের একাংশের চামড়া উদরে ওঠে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। অপরদিকে ট্রাক্টরচালক ট্রাক্টরটি ঘটনাস্থলে ফেলে সটকে পড়ে। মোটরসাইকেলটিও পড়ে থাকে ঘটনাস্থলে। গুরুতর আহত দুজনের মধ্যে ফয়সাল কবীরকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত জনি সাদিককে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। নিহত ফয়সালের মৃতদেহ সিনেমাহলপড়ার বাসায় নেয়া হলে নিকটজনদের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে লাশ খুলনার ফুলতলায় নেয়ার প্রক্রিয়া করেন পরিবারের সদস্যরা।

আমাদের দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি ট্রাক্টর ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নেন। ট্রাক্টরটি দামুড়হুদার আনোয়ার হোসেনের ছেলে জুয়েলের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ট্রাক্টরটি যেমন বেপরোয়াগতিতে ছুটছিলো, তেমনই মোটরসাইকেলেরও গতি ছিলো বেপরোয়া। অস্বাভাবিক গতিতে ট্রাক্টরটি অতিক্রমের সময় ঘটে দুর্ঘটনা। ঝরলো প্রাণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *