মেলে ধরার মঞ্চে তরুণ ক্রিকেটাররা

মেলে ধরার মঞ্চে তরুণ ক্রিকেটাররা
স্টাফ রিপোর্টার: ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটারদের নিজেদের চেনানোর সবচেয়ে বড় মঞ্চ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। ওয়ানডে ক্রিকেটের এ প্রতিযোগিতা দিয়েই ব্রায়ান লারা, ক্রিস গেইল, বিরেন্দ শেবাগ, মুশফিকুর রহিমদের আগমন ধ্বনি শুনেছিলো ক্রিকেট বিশ্ব। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে পর্দা উঠছে তরুণ ক্রিকেটারদের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত সেই টুর্নামেন্টের। প্রথম দিন শিরোপাধারী দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। অন্য ম্যাচে ফিজির বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড।
১৯ দিনের টুর্নামেন্টে ম্যাচ হবে ৪৮টি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের আটটি ভেন্যুতে হবে খেলা। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৪ ফেব্রুয়ারি হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। এছাড়াও খেলা হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ও এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে, সিলেটের বিভাগীয় ও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এবং কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে। শিরোপা স্বপ্নটা গত দুই বছর ধরেই দেখছেন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররা। সেই স্বপ্ন পূরণে সবার আগে সুপার লিগ নিশ্চিত করতে চায় দলটি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়েই নিজেদের দাবিটা জানিয়ে রাখতে প্রত্যয়ী মেহেদি হাসান মিরাজরা। দক্ষিণ আফ্রিকার শিরোপা ধরে রাখার পথটাও কঠিন, নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অগ্নিপরীক্ষায় পড়তে হবে তাদের। ১৮ বছরের শিরোপা খরার অবসান ঘটাতে চায় ইংল্যান্ড। তবে উপমহাদেশে ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে শিরোপা জেতা কঠিনই হবে তাদের জন্য। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে তরুণদের পরিণত হয়ে উঠার মঞ্চ হিসেবে দেখেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার কপিল দেব, অনেক দল পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সেই দলগুলোর জন্য নতুন খেলোয়াড় পাওয়ার প্ল্যাটফর্ম। হাশিম আমলা, বিরাট কোহলি, স্টিভেন স্মিথ, কেন উইলিয়ামসন, জো রুটদের ক্রিকেট বিশ্ব চিনেছিলো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে। জিম্বাবুয়ের কোচ ডেভ হোয়াইটমোর মনে করেন, তারাই আজ তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
বাংলাদেশের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের কাছে, এ টুর্নামেন্ট নতুন ক্রিকেটার তৈরির জায়গা। ১৯৮৮ সালে হওয়া প্রথম আসরের স্মৃতি এখনও তার মনে তাজা। সেবার ক্রিকেট বিশ্ব পেয়েছিলো লারা, ইনজামাম-উল-হক, সনাৎ জয়াসুরিয়াদের। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের ‘স্পেশাল’ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ হিসেবে দেখেন হাথুরুসিংহে। কোনো চাপ না নিয়ে টুর্নামেন্ট উপভোগের মন্ত্র শুনিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ দলের প্রায় সব খেলোয়াড় উঠে এসেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে। মুশফিক, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমানরা বিশ্বকাপের পরেই নজরে আসেন। পাকিস্তানের কোচ ওয়াকার ইউনুস তরুণদের বিশ্বকাপ উপভোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সাবেক এই পেসারের কাছে প্রতিযোগিতাটি তরুণদের নিজেদের প্রতিভা প্রমাণের জায়গা।
‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আছে স্কটল্যান্ড ও নামিবিয়া। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, কানাডা ও ২০০৪ ও ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। ‘সি’ গ্রুপে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের সঙ্গী ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, ও ফিজি। ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশে আসেনি দলটি। তিনবারের শিরোপা জয়ী দল ভারতের সঙ্গে এই গ্রুপে আছেন নিউজিল্যান্ড ও নেপাল।
অস্ট্রেলিয়ার জায়গায় আইসিসির আমন্ত্রণে খেলতে এসেছে আয়ারল্যান্ড। প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল খেলবে সুপার লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালে। শেষ দুই খেলবে প্লেট চ্যাম্পিয়নশিপে।
২০টি ম্যাচ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এবার, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যা সবচেয়ে বেশি। গত যুব বিশ্বকাপের ১১টি খেলা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছিলো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *