হ্যাটট্রিকেই রোনালদোকে মেসির জবাব

মাথাভাঙ্গা মনিটর: মাত্র ২৪ ঘণ্টা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিক আনন্দে ভাগ বসাতে মাত্র একটা দিনই সময় নিলেন লিওনেল মেসি। আগের রাতে গ্যালাতাসারাইয়ের জালে তিন গোল ঢুকিয়েছিলেন রোনালদো। গতকাল মেসি গুনে গুনে ঠিক তিন গোলই ঢোকালেন আয়াক্সের জালে। ৬-১ গোলের বড় জয় দিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের যাত্রা শুরু করেছিলো রিয়াল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাও ৪-০ গোলের জয় দিয়ে শুভসূচনা করলো। চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ অভিষেকই হলো কোচ জেরার্ডো ‘টাটা’ মার্টিনোর। এর জন্য মার্টিনো অবশ্যই ধন্যবাদ জানাবেন স্বদেশি, তারই মতো নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ থেকে উঠে আসা মেসিকে। ২১ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিক দিয়ে শুরু হয়েছিলো মেসির গোলের। প্রথমার্ধে ওই এক গোলেই এগিয়ে ছিলো বার্সা। মেসির দ্বিতীয় গোলটি ৫৫ মিনিটে। সার্জিও বুসকেটসের বাড়িয়ে দেয়া পাস থেকে। ৭৫ মিনিটে জাভির কাছ থেকে বল পাওয়ার পর মেসি জটলার ভেতর দিয়ে যেভাবে বল জালে পাঠালেন, আয়াক্সের গোলরক্ষক আর ডিফেন্ডাররা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলেন। পূর্ণ হয়ে গেলো চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসির চতুর্থ হ্যাটট্রিক। মাঝে ৬৯ মিনিটে নেইমারের চোখ ধাঁধানো ক্রস থেকে হেডে গোল করেছেন জেরার্ড পিকে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসির গোলও হয়ে গেলো ৬২টি। এ প্রতিযোগিতায় রাউলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি আরও অনিরাপদ হয়ে উঠলো। রাউল যে মাত্র ৯ গোলে এগিয়ে। কে জানে, এ মরসুমেই হয়তো এ রেকর্ডটাও নিজের করে নেবেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ৪-০ গোলের পরাজয় নিঃসন্দেহে বড় লজ্জার আয়াক্সের জন্য। তবে শুধু স্কোরলাইন ম্যাচ সম্পর্কে দেবে ভুল বার্তা। স্কোরলাইন ৪-২, ৪-৩, এমনকি ৪-৪-ও হতে পারত! তার সামর্থ্য নিয়ে বার্সেলোনার সংবাদ মাধ্যমের নিরন্তর প্রশ্ন তোলায় অভিমানে চুক্তি নবায়ন না করে এ মরসুম শেষেই বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা ভিক্টর ভালদেস জীবনের সেরা ফর্মেই যেন আছেন। বার্সা যে তাকে কতোটা মিস করবে, সেটাই বুঝিয়ে দেয়ার পণ করে মাঠে নামা ভালদেস সাতটি সেভ করেছেন। যার চারটি সত্যিই দুর্দান্ত। ৭৭ মিনিটে পেনাল্টিও ঠেকিয়েছেন। নিয়মিত ৭০ শতাংশের বেশি বল দখলে রেখে অভ্যস্ত বার্সার এদিন বল পজিশন ছিলো ৫৭ শতাংশ!

ফলে এমন পরাজয় থেকেও চাইলে গৌরব কুড়িয়ে নিতে পারে ইয়োহান ক্রুইফেরই আরেক দল এ আয়াক্স। ন্যু ক্যাম্পে ফিরে ঘরের ছেলে বোজান কিরকিচও জানিয়ে দিয়েছেন, অনেক বড় হয়ে গেছেন তিনি। মেসি, ভালদেসের পর ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সম্ভবত কিরকিচই ছিলেন। দুর্ভাগ্য, পরাজিতদের কেউ মনে রাখে না! আয়াক্স কোচ ফ্রাঙ্ক ডি বোয়েরের জন্যও এটি ছিলো ন্যু ক্যাম্পে ফেরা। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত কাতালান ক্লাবটিতে খেলে যাওয়া এ সাবেক ডিফেন্ডার টিকি টাকা ফুটবলের সবক নিয়েই নিশ্চয়ই ফিরে গেলেন দেশে।Mesi

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *