রেকর্ড গড়ে ফাইনালে বার্সা

মাথাভাঙ্গা মনিটর: মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রেখে অন্যদের পরীক্ষা নিরীক্ষার ম্যাচে জিততে না পারলেও দারণ এক কীর্তি গড়ে বাড়ি ফিরেছে বার্সেলোনা। ভালেন্সিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে স্পেনের দলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ম্যাচ অপরাজিত থাকার ইতিহাস গড়েছে লুইস এনরিকের দল। শেষ চারের ফিরতি পর্বের এই ম্যাচে না জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৮-১ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেই কোপা দেল রের ফাইনালে পৌঁছেছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে ৭-০ গোলে জিতেছিলো তারা।

কাম্প নউয়ে বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ায় ভালেন্সিয়ার ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গিয়েছিলো আগেই। এ ম্যাচকে তাই তারা দেখছিল কিছুটা হলেও নিজেদের ফেরানোর লড়াই হিসেবে।

সে লক্ষ্যে প্রথমার্ধেই পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যায় দলটি। ৩৩তম মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে উড়ে আসা বল দারণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন আলভারো নেগ্রেদো। গোলরক্ষক আন্দ্রে টের স্টেগান এগিয়ে এসে বল ঠেকানোর চেষ্টা করলেও পারেননি, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ফাঁকা জালে বল জড়ান এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু স্ট্রাইকার মুনির এল হাদ্দাদির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেস, নেইমার, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাসহ নিয়মিত প্রথম একাদশের কেউই বলতে গেলে এ দিন দলে ছিলো না। বি দলে নেমে আসা এই বার্সেলোনার উপর দ্বিতীয়ার্ধে চেপে বসে স্বাগতিকরা। এমএসএন-এর আক্রমণ ঠেকানোর দুঃশ্চিন্তা না থাকায় এই অর্ধে বেশ আক্রমণাত্মকও হয়ে ওঠে ভালেন্সিয়া। ৭৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণও হতে পারতো, কিন্তু ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার দানিলোর ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক।

শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামার এক মিনিটের মাথায় বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান ক্যামেরুনের মিডফিল্ডার উইলফ্রিদ কাপতৌম। এই গোলেই শেষপর্যন্ত হার এড়ানোর পাশাপাশি ইতিহাস গড়ার আনন্দে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এই ড্রয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রেকর্ড টানা ২৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকলো এনরিকের দল। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তখনকার কোচ পেপ গুয়ার্দিওলার অধীনে টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আগের রেকর্ডটি গড়েছিল কাতালান ক্লাবটি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *