মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো

মাথাভাঙ্গা মনিটর: ফুটবল ইতিহাস এতো ভয়ঙ্কর ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগে কখনোদেখেনি। প্রতিনিয়তই পরস্পরকে ছাড়াতে বিশ্বরেকর্ড পেয়ে দলে চলেছেনক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। এ লড়াইয়ে আরেকটি পালক এবার নিজেরমুকুটে যোগ করলেন পর্তুগিজ তারকা রোনালদো ও মেসির নাম মুছে দিয়ে একমোরসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেলেন তিনি।শেষষোলোর দ্বিতীয় লেগে শালকের বিরুদ্ধে যখন দুটি গোল করেন তখনই জেগেছিলোসম্ভাবনাটা। আর গত মঙ্গলবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখকে চার গোলে বিধ্বস্ত করারপথে আরো দুটি গোল করে সেই সম্ভাবনাটাকে বাস্তবে নামিয়ে আনলেনক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।গ্যালাতাসারের মাঠে টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে প্রথম গোলের মাধ্যমে শুরু। এরপর ম্যাচের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তেথাকে রোনালদোর গোল সংখ্যাও। কয়েক দিন পরেই ম্যাচ গোলের সেইপ্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে থাকে ম্যাচ সংখ্যা। শেষ ষোলোর প্রথম লেগেশালকের বিরুদ্ধে দু গোলে রোনালদো চলতি মোরসুমে এ টুর্নামেন্টে নিজেরগোল সংখ্যাকে নিয়ে যান ১২ তে। এরপর একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় লেগেআসে আরেকটি গোল।এরপর শেষ আটে আরেক জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডেরবিরুদ্ধে একটি গোল করে ছুঁয়ে ফেলেন মেসি, রুদ ফন নিস্টলরয়, হোসেআলতাফানিদের ১৪ গোলের রেকর্ড। সেই রেকর্ডটাকে একান্ত নিজের করে নিতেসেমিফাইনালে বায়ার্নের বিরুদ্ধে একটি মাত্র গোলই প্রয়োজন ছিলো এপর্তুগীজের। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে গোল না পাওয়ায় সেইঅপেক্ষাটা খানিকটা দীর্ঘ হলেও দ্বিতীয় লেগে আর ভুল করেননি ফিফা বর্ষসেরাখেলোয়াড়টি। প্রথমার্ধের ৩৪ মিনিটে প্রথম গোলের পর ম্যাচের সর্বশেষ মিনিটেআরেকটি গোলে এ মোরসুমে দশ ম্যাচে রোনালদোর গোল সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১৬তে। আর এ টুর্নামেন্টে রোনালদোর মোট গোল সংখ্যা ৬৭। যা কিনাচ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৭১ গোল নিয়ে তালিকারশীর্ষে আছেন সাবেক রিয়াল কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেস। রাউলের কাছাকাছি যাওয়ারআরেকটি সুযোগ রোনালদো পাচ্ছেন শীঘ্রই। রোনালদোর অবিশ্বাস্য ফর্ম বলছেলিসবনের ফাইনালে যদি তার নামের পাশে আরেকটি গোল যুক্ত হয়, তাহলে মোটেইঅস্বাভাবিক হবে না বিষয়টি।এ দিকে, ম্যাচ শেষে রোনালদো স্বীকারকরেছেন ম্যাচে একটিবারের জন্যও রেকর্ডের ব্যাপারটি মাথা থেকে যায়নি তার।যদিও, ব্যক্তিগত মাইলফলকের চাইতে বড় করে দেখতে চাইলেন রিয়ালের সেমিফাইনালগেরো খুলতে পারার বিষয়টিকেই। পর্তুগাল অধিনায়ক বলেন, আমি আসলে এটার জন্যচেষ্টা করছিলাম এবং আমি জানতাম এর জন্য একটি গোলই যথেষ্ট। তবে তার মানে এনয়, যদি সেটা না হতো তাহলে আমি পাগল হয়ে যেতাম। বেলের পাসটি ছিলো সত্যিইদারুণ। পুরো দলই আমাকে সাহায্য করেছে আসলে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ রেকর্ডভাঙ্গতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। তবে আমার আসল লক্ষ্য হল ফাইনাল জেতা।রিয়ালেরস্বপ্নের ‘লা দেসিমা’বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দশম শিরোপা জেতার পথে যে কোনোবাধাকেই উড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ভক্তদের, সেই পথে (শিরোপার)মরিনহো কিংবা যেই আসুক আমি পরোয়া করি না। এটা আমার দেশে অনুষ্ঠিত হবে এবংসেই ফাইনালটা আমি জিততে চাই।তবে ফাইনালের আগে আপাতত কয়েকটি দিনবায়ার্ন বধের মধুর স্মৃতি নিয়েই কাটাতে চান বলে জানালেন রোনালদো। চলতিমোরসুমে কঠোর পরিশ্রম আর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পর সেই বিশ্রামটাব্লাঙ্কোসদের প্রাপ্য বলেই মনে করছেন তিনি, আমরা শক্ত মানসিকতার পরিচয়দিয়েছি এবং আমার বিশ্বাস ফাইনালটা আমাদের প্রাপ্যই ছিলো। সমর্থকদের ধন্যবাদ।ধন্যবাদ সতীর্থদেরও। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে এ জয়টাকে উপভোগ করা এবংফাইনালটা জেতার জন্য মাঠে নামা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *