বাংলাদেশের হতাশার হার

 

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রীলঙ্কাকে ১৮০ রানে গুটিয়ে দিয়েও বাংলাদেশকে হার মানতে হলো ১৩ রানের। শামসুর রহমান ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু আচমকা ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ব্যাটসম্যানদের অস্থির ব্যাটিঙে শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া হলো স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় বলেই শ্রীলঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গার কাছে উইকেট হারান ওপেনার এনামুল হক। দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সাচিত্রা সেনানায়েক বল তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হলেও প্রথম স্লিপে থাকা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস লুফে নেন। এরপর শামসুর রহমানকে নিয়ে জয়ের পথে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে থাকেন মুমিনুল হক। কিন্তু ওয়ানডের অভিষেক ফিফটি থেকে ছয় রান দূরে থাকতে ব্যাটিং ক্রিজ ছাড়তে হয় তাকে। ভাঙে ৭৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তবে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় ফিফটি পেয়েছেন শামসুর। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান ৪৯ বলে পাঁচ চার ও তিন ছয়ে ৬২ রানে রান আউট। সাকিব আল হাসানও একইভাবে আউট হন। কয়েক ওভার বিরতিতে সেনানায়েক এক ওভারে নাসির হোসেন ও মাহমুদউল্লাহকে সাজঘরে পাঠান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের বলে কিথুরুয়ান ভিথানাগের তালুবন্দি সোহাগ গাজী। সাতটি উইকেট হারালেও মুশফিকুর রহিম ভরসা হয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনিও আউট হলেন ভুল শটে। ২৭ রানে স্কুপ করে কুমার সাঙ্গাকারার গ্লাভসে বল তুলে দেন। এর আগে দারুণ শুরু হয়েছিলো বাংলাদেশি বোলারদের। তাদের তোপে পড়ে ৬৭ রানের মধ্যে আট উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু থিসারা পেরেরা ও সাচিত্রা সেনানায়েক স্বাগতিক ফিল্ডারদের কাছে চারবার জীবন পায়। এর মাশুল গুনতে হয় মুশফিক বাহিনীকে। কুশল পেরেরা ও তিলকরত্নে দিলশান ঝড় তোলেন শুরুতেই। চতুর্থ ওভারে দিলশানকে ৩ রানে সাজঘরে পাঠিয়ে এ জুটি ভাঙেন রুবেল হোসেন। ডানহাতি পেসার নিজের পরের ওভারে কুশলকে (২০) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন। কয়েক ওভার বিরতিতে আল-আমিনের বলে আরাফাতের তালুবন্দি হন লঙ্কানদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা, ৮ রান করেন তিনি। পরের ওভারে সাকিব আল ‍হাসানের বলে ব্যাটে প্যাডে লেগে আউট হন আশান প্রিয়ঞ্জন। ৫২ রানের মধ্যে চার উইকেট হারানোর পর আরাফাতের জোড়া আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৫ রান যোগ করতে আরও চারজন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকে ৩ ও নুয়ান কুলাসেকারাকে খালি হাতে ফেরান আরাফাত।দিনেশ চান্দিমাল ১৩ ও কিথুরুয়ান ভিথানেজ ৭ রানে একইভাবে রান আউট হন। বাংলাদেশের কাছে সর্বনিম্ন হারের শঙ্কায় পড়েছিলো লঙ্কানরা। সফল হতে পারতো স্বাগতিকরা। কিন্তু ২৩তম ওভারে আরাফাতকে লংঅনে মেরেছিলেন থিসারা। কিন্তু সীমানার প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডারের হাত ফসকে চলে যায় ওপারে। একইভাবে সোহাগ গাজীর বলে জীবনও পান, ছয়ও পান তিনি। মাঝে সেনানায়েকের একটি শট স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা মাহমুদউল্লাহর হাত গলে বেরিয়ে যায়। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান দ্বিতীয়বারের মতো জীবন পান ৩১তম ওভারের তৃতীয় বলে। মিডঅন ও মিডউইকেটের মাঝামাঝিতে উড়ে আসা বলটি হাতে জমাতে ব্যর্থ হন সাকিব। ৬ ও ৩০ রানে দুবার জীবন পাওয়া থিসারা ৪০ বলে তৃতীয় ফিফটি পান। এরপরই সেনানায়েককে ৩০ রানে বোল্ড করেন সাকিব। থিসারা ক্যারিয়ার সেরা ৮০ রানে অপরাজিত ছিলেন। লাসিথ মালিঙ্গার উইকেটটি নিয়ে সোহাগ গাজী গুটিয়ে দেন লঙ্কানদের।ঘাড়ের ব্যথায় তামিম ইকবালকে ছাড়াই এদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নামে বাংলাদেশ। দুদিনের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে সোমবার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পৌনে দুই ঘণ্টা পর খেলা শুরু হয়। ৪৩ ওভারে কমিয়ে আনা ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির পর এদিন ওয়ানডেতেও অভিষেক হয়েছে স্পিনার আরাফাত সানির। বাংলাদেশের পক্ষে ১০৯তম ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ক্যাপ পরলেন তিনি। দেশের ১১০তম ওয়ানডে ক্যাপ পরেন আল-আমিন। তামিম ছাড়াও বাদ পড়েছেন নাঈম ইসলাম, শফিউল ইসলাম ও মাশরাফি মুর্তজা। উইকেটের পেছনে থাকবেন এনামুল হক। এর আগে বাংলাদেশ দু ম্যাচের টেস্ট সিরিজে লঙ্কানদের সাথে ১-০ তে হেরেছে। আর শেষ বলে দুটি টি-টোয়েন্টিতে লড়াই করে হার মেনেছে স্বাগতিকরা।

Leave a comment

Your email address will not be published.