নেপালে হারল অনূর্ধ্ব-২৩ দল

 

মাথাভাঙ্গা মনিটর: ফুটবলে নেপালের সঙ্গে যেকোনো পর্যায়েই জয় প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। কিন্তু ‘বাস্তবতা’ বলছে, এ ধারণা থেকেও এখন সরে আসা জরুরি। নেপালের বিপক্ষে ‘জয়’টাও এখন ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। কাঠমান্ডুর আনফা কমপ্লেক্সে আজকের ম্যাচে নেপালের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব ২৩ দল। ফিলিস্তিনে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ প্রতিযোগিতায় খেলতে যাওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি চেয়েছিলেন কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড। সেটাও কতোটুকু মিললো, বোঝা কঠিন।

প্রস্তুতির অংশ হলেও ম্যাচটিকে ‘মর্যাদার লড়াই’ হিসেবেই দেখেছিলেন কোচ ওর্ড। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে না হারার প্রত্যয়ও জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের লইয়ে নেপাল যে বাংলাদেশের চেয়ে এই মুহূর্ত যোজন ব্যবধানে এগিয়ে, সেটিই প্রমাণ হয়ে গেল। ম্যাচের ১৯ মিনিটে বিমল ঘাত্রী মাগার বাংলাদেশের রক্ষণের দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গোল করলেন। গোল শেষ পর্যন্ত একটাই। তবে নেপালের গতিশীল ফরোয়ার্ডদের সামনে বাংলাদেশের রক্ষণ বারবার হুমকির মুখে পড়ছিল। ফিলিস্তিনের মাটিতে জর্ডান, তাজিকিস্তান ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোর আক্রমণের গতি সামলাতে পারবে তো বাংলাদেশ?
গোলটি করার সময় মাগার বেশ কয়েক সেকেন্ড আন মার্কড ছিলেন। ডান দিক দিয়ে অঞ্জন বিসটা বেশ দ্রুততার সঙ্গে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বাংলাদেশের বক্সে। সেখান থেকে কাট ব্যাক করে দেন মাগারকে। মাগার বলটি ডান পা দিয়ে ধরে শরীরটাকে ঘুরিয়ে বাঁ পা দিয়ে গোলে পাঠান। আনফা কমপ্লেক্সের টার্ফ মাঠে প্রথম থেকেই খেলতে অসুবিধা হচ্ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের। ম্যাচে পরিষ্কার প্রাধান্য ছিলো নেপালের। রাজু শাক্যর দলের ফরোয়ার্ডরা বারবারই ঢুকে পড়ছিলো বাংলাদেশের সীমানায়। ম্যাচে স্কোরলাইনটা আসলে ঠিক ম্যাচের সঠিক চিত্রটা বলতে পারছে না। বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগও হাতছাড়া করেছে নেপাল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। খেলায় বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে ‘প্রতিভাবান’ রুবেল মিয়া ছিলেন গোটা ম্যাচেই নিষ্প্রভ। ঘরোয়া ফুটবলে প্রতিভার ঝলক দেখানো গাইবান্ধার এই ফুটবলার আন্তর্জাতিক ফুটবলে কেন এমন ম্রিয়মাণ থাকেন, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। জাতীয় দলের এই ফুটবলার গত অক্টোবরে ভুটান-বিপর্যয়ের সেই ম্যাচেও প্রত্যাশা থেকে অনেক দূরে ছিলেন। রুবেল বাজে খেললেও জাফর ইকবাল ভালো খেলেছেন। নেপালি রক্ষণে আতঙ্কও ছড়িয়েছেন। একবার তো তিনজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে নেপালের বক্সে দারুণ একটা ক্রসও করেছিলেন। তবে প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কারণেই বোধ হয় কোচ ওর্ড বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। জুয়েল রানা, তকলিচ আহমেদ ও হেমন্ত ভিনসেন্টদের মতো খেলোয়াড়েরা গতকাল একাদশে ছিলেন না। অধিনায়ক সোহেল রানা মোটামুটি খেলেছেন।

ম্যাচের শেষ দিকে নেপালি রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছিলো বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি কর্নার আদায় করে নিলেও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি। বাংলাদেশে আক্রমণভাবে ভালো স্ট্রাইকারের সংকটটা এখন বয়সভিত্তিক দলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সেটিও দলের জন্য বড় পরীক্ষাই। ১৬ জুলাই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী কাতার অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এখান থেকেই ফিলিস্তিনে পা রাখবে বাংলাদেশ।

Leave a comment

Your email address will not be published.