নেদারল্যান্ডস-আর্জেন্টিনা আরেকটি দ্বৈরথ

মাথাভাঙ্গা মনিটর: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডসের অতীতইতিহাস ফুটবল রোমাঞ্চপিয়াসীদের নড়েচড়ে বসতে বলছে। সাও পাওলোয় এ দু দলেরসেমিফাইনাললে লিওনেল মেসি আর রবিন ফন পের্সির লড়াইয়ে মধ্যদিয়ে আরেকটাধ্রুপদী দ্বৈরথেরই আশা করছে তারা।এর আগে বিশ্বকাপে চার বার সাক্ষাৎ হয়েছে আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডসের।চারটি ম্যাচই ফুটবলপিপাসুদের উপহার দিয়েছে ছন্দময় ফুটবল আর রোমাঞ্চকরঅনুভূতি।১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ব্যক্তিগত নৈপূন্যের ঝলকদেখিয়েছিলেন ডেনিস বার্গকাম্প। তার অনিন্দ্যসুন্দর এক গোলে জয় পেয়েছিলোডাচরা। হেরে গেলেও রোমাঞ্চকর ফুটবল উপহার দিয়েছিলো আর্জেন্টিনাও।দুদলের প্রথম বিশ্বকাপ-সাক্ষাৎ ১৯৭৪ সালে। দলীয় দক্ষতার অসাধারণ এক উদাহরণরেখে সেই ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছিলো‘টোটাল ফুটবলের’দেশটি। কিংবদন্তীক্রুইফের জোড়া গোল যেমন ওই ম্যাচে ব্যক্তিগত নৈপূন্যের উদাহারণ,তেমনিচোখ-ধাধানো পাসিং ফুটবল ছিলো দলীয় খেলার দারুণ এক দৃষ্টান্ত।১৯৭৮ সালে দেশের মাটিতে বদলা নেয় আর্জেন্টিনা। অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়ে ডাচদের ৩-১ গোলে হারায় তারা।তবেবিশ্বকাপে দু দলের সবশেষ ম্যাচটি হয়তো ফুটবল বিশ্ব ভুলে গিয়েই থাকবে। ২০০৬বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি ছিলো গ্রুপ পর্বে দুই দলের শেষ ম্যাচ। নকআউটে উঠেযাওয়া দু দলের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিলো।

স্বাগতিক ব্রাজিল যেমন১৯৫৮ আর ১৯৭০ বিশ্বকাপে তাদের দল আর সুন্দর ফুটবল নিয়ে গর্ব করে,ডাচদেরওতেমনি গর্বের কিছু আছে। আর সেটা সত্তরের দশকে রাইনাস মিশেলের সৃষ্টি ‘টোটালফুটবল’। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে জার্মানির গেলজেনকির্চেনে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেক্রুইফরা যেন সুন্দর ফুটবলের পসরা মেলে ধরেছিলেন।চার বছর পরআর্জেন্টিনা স্ট্রাইকার মারিও কেম্পেসে ভর করেই এর শোধ তোলে। চার বছর আগেবেঞ্চে বসে দলকে গুড়িয়ে যেতে দেখা কেম্পেসই ১৯৭৮ সালে ডাচদের বিপক্ষে গোলেরসূচনা করেন।নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরে ডাচরা।কিন্তু কেম্পেস আবার এগিয়ে দেন দলকে। এর পর ৩-১ গোলের জয়ে তৃতীয় গোলটিতেওঅবদান রাখেন তিনি।

২০ বছর আগে বিশ্বকাপে দু দলের তৃতীয় সাক্ষাতে ডাচদলের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট এবার ফন পের্সি-রবেনদের সহকারী কোচ।১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জালে গোলের সূচনা তিনিই করেছিলেন। এরপর ছিলোম্যাচের শেষ মুহূর্তে বার্গক্যাম্পের ঝলকানি।ব্রাজিল বিশ্বকাপে ঝলকদেখিয়ে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার মেসি আর ডাচদের ফন পের্সি। ৫ ম্যাচ খেলে ৪ গোলকরেন মেসি। একটি গোলে রাখেন অবদান। ফন পের্সি গোল করেন ৩টি। তবে স্পেনেরবিপক্ষে হেড থেকে করা গোলটি আছে বিশ্বকাপের সেরা গোল হওয়ার দৌড়ে।ফুটবলরোমাঞ্চপিয়সীদের স্মৃতি তাই আবার জাগছে। আরেকটি ধ্রুপদী দ্বৈরথের রোমাঞ্চেডুব দেয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা। ভাগ্য তাদের হয়ত সেই সুযোগ দিচ্ছে। মেসি আরফন পের্সি তো মাঠে থাকছেন আগামীকাল বুধবারের সেমিফাইনালে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *