অপূর্ণই থেকে গেলো ফাইনালের স্বপ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ উইকেটে হেরে অপূর্ন থেকে গেলে বাংলাদেশের যুবাদের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন। মিরপুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে পৌঁছাতে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগারদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ। ব্যাটিঙে নেমে শুরুতেই বেশ বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে পিনাক ঘোষ কোনো রান করার আগেই বিদায় নেন। কেমার হোল্ডারের লাফিয়ে উঠা বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পিনাক। দলীয় ১০ রানের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন সাইফ হাসান। জোসেফের বলে স্কয়ার লেগে গোলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে সাইফ ১৬ বলে করেন ১০ রান। দু ওপেনারকে হারিয়ে খেলতে থাকা বাংলাদেশ ইনিংসের ১৩তম ওভারে দলীয় ৫৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায়। রায়ান জনের বলে বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। ২৪ বল মোকাবেলা করে একটি বাউন্ডারি পান শান্ত।

দলীয় ৫৮ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বেশ ভালোই খেলছিল টাইগার যুবারা। উইকেটে সেট ব্যাটসম্যান জয়রাজ শেখ ও জাকির হাসান ৩০ রানের জুটিও গড়েন। তবে ইনিংসের ২২তম ওভারে স্প্রিংগারের ভেতরে আসা একটি বলে ইনসাইডএজ হয়ে বিদায় নেন জয়রাজ। আউট হওয়ার আগে ৫৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৫ রান করেন তিনি।

কোয়ার্টার-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে অসাধারণ জুটিতে জয়ের দুই নায়ক জাকির হাসান ও মিরাজ আবারও ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বড় কিছুর। কিন্তু হঠাৎই মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন জাকির। হোল্ডারকে ক্রস ব্যাটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হারান স্টাম্প (২৪)। এরপরই মিরাজ-সাইফুদ্দিনের সময়োপযোগী জুটি। প্রথম ৩০ ওভারে স্পিন আনেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ার। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বোলিং করান প্রথম চার পেসারকেই। আরেক পেসার কিমো পল ফিল্ডিংয়ে চোট পেয়ে ওই সময় বোলিং করতে না পারায় বিপাকে পড়েন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। স্পিন আক্রমণে আসায় স্বচ্ছন্দে খেলতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান।

থিতু হওয়ার পর পেসারদের বিপক্ষেও দারুণ খেলেছেন দুজন। সিঙ্গেল-ডাবলস নেয়ার ফাঁকে বাজে বলকে দিয়েছেন প্রাপ্য সাজা। চোট কাটিয়ে বল হাতে নিয়েই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থমকে দেন কিমো পল। ৪৬তম ওভারে পরপর দু বলে দুই থিতু ব্যাটসম্যানকেই ফিরিয়ে দেন এই মিডিয়াম পেসার। টুর্নামেন্টে তুতীয় অর্ধশতকের পর শর্ট বল আকাশে উড়িয়ে ধরা পড়েন মিরাজ। পরের বলেই ডাউন দা উইকেটে খেলে লাইন মিস করে বোল্ড সাইফুদ্দিন (৩৬)। পরের ওভারে পল ফিরিয়ে দেন সাইদ সরকারকেও (২)।

টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মোসাব্বেক হোসেন করেন ১২ বলে ১৪। শেষ ওভারে মেহেদি হাসান রানার (১০*) ছক্কায় বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যায় ২২০। বাংলাদেশের বোলিং শক্তি বিবেচনায় ২২৭ রানের টার্গেটই ছিলো বেশ লড়াকু। কিন্তু শুরুতেই ক্যারিবিয় ওপেনারদের মারমুখি ভূমিকা বেশ বিপদে ফেলে দেয় বাংলাদেশকে। ৩০ বলে ৪৪ রান করে এই ওপেনিং জুটি। এরপর সিমরন হেট মায়ারের করা ৬০ রানে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু অধিনায়ক মিরাজ ও সালেহ আহমেদ শাওন দ্রুত বেশ কিছু উইকেট নিয়ে আবারো ম্যাচে ফেরায় বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত ১৮১ রানে ৬ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু কোয়ার্টারে পাকিস্তানের বিপক্ষে মারমুখি ভূমিকায় অবতীর্ন স্প্রিঙ্গার ব্যাট হাতে শুরু করেন বেশ ধিরস্থির খেলা। তার কল্যাণে আর কোন উইকেট না হারিয়ে জয়ের কাছাকাছি পৌছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ২১৭ রানে ক্যরাবিয়ানদের শেষ উইকেট পতন হয়। অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ন করার পাশাপাশি ৪৮.৪ ওভারে দলকে জয় এনে দেন স্প্রিঙ্গার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *