যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে প্রত্যাহার হচ্ছে প্রাণের হলুদ

 

Turmeric-Powder-1__41625.1330001271.1280.1280মাথাভাঙ্গা অনলাইন : বাংলাদেশি কোম্পানি প্রাণের হলুদের গুঁড়ায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা পাওয়া গেছে। এ কারণে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রে এই মসলার পরিবেশক কোম্পানি মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটভিত্তিক কোম্পানি বেস্ট ভ্যালু ইনকরপোরেশন। গত মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাণের হলুদের গুঁড়ায় উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গেছে, যা নবজাতক, কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতীদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন প্রাণের হলুদের গুঁড়ার নমুনা সংগ্রহের পর তা পরীক্ষা করে। তারা এতে বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়ার পর বেস্ট ভ্যালু ইনকরপোরেশন প্রাণের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার কাজ শুরু করে। তবে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসা শরীরে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সঞ্চিত থাকতে পারে। এর মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ দেরিতে মানসিক ও শারীরিক বিকাশ এবং শেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি করতে পারে। গর্ভবর্তী নারী, নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের সিসা গ্রহণ থেকে বিরত রাখা উচিত। তাই যেসব লোক তাদের রক্তে সিসার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত, তাদের উচিত চিকিত্সক বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করা।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রাণের ৪০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়ার প্যাকেট ক্রেতাদের ওই পণ্যটি ক্রয়ের স্থানে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কোনো ক্রেতার এ বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য ফেরতের ব্যাপারে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার (মিডিয়া) সুজন মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের নিচু এলাকায় উত্পাদিত কৃষিপণ্যে সিসা একটু বেশি থাকে। এ নিয়ে আমাদের গবেষণা হয়েছে। আমরা এ সমস্যার অনেকটা সমাধান করেছি।’ তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধান না করা পর্যন্ত এ ধরনের পণ্য রপ্তানি করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটির অবস্থার কারণে এখানে উত্পাদিত হলুদে সিসার পরিমাণ বেশি থাকে। আমরা গুঁড়া হলুদ বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি করি। বিএসটিআই আমাদের স্ট্যান্ডার্ড অনুমোদন করেছে। তবে আমেরিকার স্ট্যান্ডার্ড এটাকে সাপোর্ট করেনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রোডাক্টে কোনো ভ্যালু অ্যাড (উপাদান সংযোজন) করিনি।’ বাংলাদেশের সব কৃষিপণ্যেই সিসার পরিমাণ বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *