মেহেরপুর গাংনীর আড়পাড়া বিলে ঘাতকচক্রের নৃশংসতা : নেপথ্য রহস্যাবৃত

আলমডাঙ্গার শালিকার জুবায়ের খুন : জবাই করা লাশ উদ্ধার

 

ঘটনাস্থল থেকে ফিরে মাজেদুল হক মানিক: মেহেরপুর গাংনী উপজেলার আড়পাড়া গড়ির বিলে জুবায়ের হোসেন (৩২) নামের এক যুবককে জবাই খুন করেছে দুর্বত্তরা। গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জুবায়ের হোসেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা গ্রামের শুকুর মেকারের ছেলে। সে স্থানীয় চাঁদাবাজ দলের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্তকোন্দলের জের ধরে তাকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশের একাধিক সূত্র।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার আড়পাড়া ও এলাঙ্গি গ্রাম থেকে অন্তত আড়াই কিলোমিটার দূরে গড়ির বিলের মাঝখানে লাশ পড়েছিলো। কড়ুইগাছি গ্রামের সামসুল আলীসহ কয়েকজন কৃষক ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে লাশের সন্ধান পায়। একে একে এলাকার উৎসুক নারী-পুরুষের ঢল নামে। সকাল ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছুলেও লাশের পরিচয় মেলাতে বিপাকে পড়তে হয়। সকাল ১০টার দিকে নিহতের পরিচয় মেলে।

স্থানীয়সূত্রে আরো জানা গেছে, ঘটনাস্থলের দক্ষিণে আড়পাড়া, পূর্ব দিকে এলাঙ্গী, পশ্চিম দিকে বড় বামন্দী ও উত্তরে কড়ুইগাছি গ্রাম অবস্থিত। এলাঙ্গি লাঙ্গেলের সুরা খালের পার্শ্ববর্তী আড়পাড়া গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে আবুল কাশেমের ক্ষেতেই লাশটি পড়েছিলো। পাট কাটার পর ক্ষেতটি চাষ দিয়ে সরিষা বপণের প্রস্তুতি চলছিলো। পার্শ্ববর্তী ৪টি গ্রাম থেকে আড়াই কিংবা তিন কিলোমিটার দূরত্ব। স্থানীয়রা জানালেন, আছরের আযানের পর থেকেই বিলে কাউকে পাওয়া যায় না। তাই কখন কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সে সম্পর্কে কিছুই জানে না এলাকার মানুষ।

গাংনী থানাসূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের হোসেনের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ঘাড়ের নীচের অংশে গিয়ে বেধেছে। চামড়া কাটলেও দেহ থেকে মস্তক বিছিন্ন হয়ে যেতো। এছাড়া তার বাম পায়ের উরুতে ১টি ও ডান পায়ের উরুতে ধারালো অস্ত্রের আরো দুটি ক্ষত রয়েছে। ব্যাপক ক্ষোভের বহির্প্রকাশে পেশাদার খুনিরা তাকে জবাই করে খুন করতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। গতকালই লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুদুল আলম জানিয়েছেন, চরমপন্থি দলের অন্তকোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হতে পারে। তদন্ত হলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।

নিহতের পারিবারিক পরিচয়: আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা গ্রামের শুকুর মেকারের ছেলে জুবায়ের হোসেনের তেমন কোনো পেশা না থাকলেও মাস তিনেক আগে থেকে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে ভালো চাকরি পেয়েছেন বিধায় স্ত্রী, মা ও দু বছর বয়সী পুত্র সন্তানকে নিয়ে যান ঢাকায়। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। তারপর থেকেই তার খোঁজ মিলছিলো না। তবে এরকম মাঝে মধ্যেই হয় তাই পরিবারের লোকজনের তেমন কোনো তোড়জোড়ও ছিলো না। গতকাল লাশের পরিচয় পাওয়ার পর গোটা পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *