মেহেরপুরের ভৈরব নদ থেকে ৩য় শ্রেণির ছাত্র নয়নের লাশ উদ্ধার স্বজনদের আহাজারি : লাশ দাফন

মেহেরপুর আফিস: প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পরে মেহেরপুর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র নয়নের (৯) লাশ ভেসে ওঠে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শহরের ঘাটপাড়া নূরানী মাদরাসার কাছে ভৈরব নদ থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নদীতে জেলের কাছে মাছ কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় নয়ন।

স্থানীয় ও পুলিশসুত্রে জানা যায়, মেহেরপুর শহরের ঘাটপাড়ার মহিবুল ইসলামের ছেলে নয়ন আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মাছ কিনতে ভৈরব নদের পাড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। প্রতিবেশীরা ওই দিন বেলা ৩টা থেকে ভৈরব নদে জাল ফেলেও তাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। পরে ডুবরি আনার সিদ্ধান্ত হয়। বাইরের জেলা থেকেও ডুবরি মেহেরপুর পৌঁছে। কিন্তু তাদের আর ভৈরবে নামতে হয়নি। তার আগেই গতকাল বেলা ১১টার হতভাগ্য শিশু নয়নের লাশ ভৈরবের পানিতে ভেসে ওঠে। লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়।

লাশ উদ্ধারকারী মেহেরপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খান আলী আকবর জানিয়েছেন, পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মেহেরপুর শহরের ঘাটপাড়ার ক্ষুদ্রব্যবসায়ী মহিবুল ইসলামের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নয়ন ছোট। সে মেহেরপুর বিএম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। বোন নাসরিন মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এ বছরের জেএসসি পরীক্ষার্থী। একমাত্র ভাই নিখোঁজ থাকার পর গতকাল তার লাশ উদ্ধার হলেও ভাইয়ের লাশ রেখে তাকে যেতে হয় মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে। এক্ষেত্রে তাকে একটি বছর পিছিয়ে না পড়তে হয়; সে বিষয়টি মাথায় রেখে তার স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ ওই কাজটি করেন। তবে ভাই হারিয়ে নাসরিন পরীক্ষা কেন্দ্রে সহপাঠীদের কাছে পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার কান্না দেখে সহপাঠীরাও চোখের পানি সামলাতে পারিনি। এ সময় সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নয়নের মৃত্যুতে তার সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে জানাজা শেষে মেহেরপুর পৌর কবরস্থানে নয়নের লাশ দাফন করা হয়েছে। তার দাফন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *