প্রতি বছরই জেএসসি-এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাড়ে : বাজেটের নানা খাত

শিক্ষকদের সম্মানি বাড়না : নয়ছয় করে ভাগাভাগির অভিযোগ

 

আলমডাঙ্গা ব্যরো: ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছরই জেএসসি, জেডিসি ও এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি বাড়ানো হলেও কক্ষপরিদর্শকের সম্মানি বাড়ছে না। মোট বাজেটের এক তৃতীয়াংশও মূল দায়িত্ব পালনকারী কক্ষপরিদর্শকদের দেয়া হয় না। অথচ প্রায় দু-তৃতীয়াংশ টাকা গুটিকয়েক কর্মকর্তা ভাগাভাগি ও নয়ছয় করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এবারের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায়ও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

পরীক্ষা গ্রহণের সাথে জড়িত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছর জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বাজেটে মোট আয় ছিলো ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭শ টাকা। সমস্ত পরীক্ষায় মোট কক্ষপরিদর্শকের সংখ্যা ছিলো ৪২১ জন। প্রত্যেক পরীক্ষায় কক্ষপরিদর্শককে ৭৫ টাকা হারে সম্মানি দেয়া হয়েছে। মোট ৩১ হাজার ৫৭৫ টাকা কক্ষপরিদর্শকদের প্রদান করা হয়। এ টাকা মোট বাজেটের প্রায় ২৪ ভাগ। অথচ পরীক্ষা গ্রহণের মুখ্য ভূমিকা কক্ষপরিদর্শকদেরই পালন করতে হয়। প্রতি বছর কেন্দ্র ফি বাড়ানো হচ্ছে। বাড়তি কেন্দ্র ফিসের জগদ্দল পাথর দরিদ্র অভিভাবককেই বহন করতে হয়। মাঝ থেকে অনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন পরীক্ষা গ্রহণের সাথে জড়িত হাতেগোনা গুটিকতেক কর্মকর্তা। মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা যাদের অনেকেরই পরীক্ষাকেন্দ্রে শুভ পদার্পণ ঘটেনি। এ সকল কর্মকর্তা ১৮ হাজার ২শ টাকা করে এক এক কেন্দ্র থেকে পৃথকভাবে নিয়েছেন। অর্থাৎ মোট বাজেটের প্রায় ১৪ ভাগ টাকা মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হিসাব দেখানো হয়েছে, এক এক কেন্দ্র থেকে জেলা প্রশাসককে ১ হাজার টাকা করে উপজেলার ৫ কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। অনুরূপভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের প্রত্যেক কেন্দ্র থেকে ১ হাজার টাকা করে মোট ৫ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ৩ হাজার টাকা করে ৫ কেন্দ্র থেকে মোট ১৫ হাজার টাকা,  জেলা শিক্ষা অফিসারের ১ হাজার টাকা করে ৫ কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার টাকা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ২ হাজার ৫শ টাকা করে ৫ কেন্দ্র থেকে মোট ১২ হাজার ৫শ টাকা, ভিজিলেন্স টিমের ১ হাজার টাকা করে ৫ হাজার, প্রত্যেক কেন্দ্র সচিব ৩ হাজার টাকা, সহকারী সচিব ২ হাজার ৭শ টাকা, হলসুপার ২ হাজার ৫শ টাকা সম্মানি নিয়েছেন। বাজেটে কিছু ভুয়া খাত দেখিয়ে বরাদ্দ রেখে টাকা নয়ছয় করার অভিযোগও আছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রত্যেক কেন্দ্রে না গিয়েও সম্মানি নিয়েছেন সকল কেন্দ্র থেকেই। তারপরও বাজেটে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস খাতে, জেলা প্রশাসককে প্রত্যেক কেন্দ্র থেকে সম্মানি দেয়া হলেও পৃথকভাবে জেলা প্রশাসকের সাধারণ শাখাখাতে ,পরীক্ষার আগে ও পরে অতিরিক্ত কাজের সময় নাস্তাখাতে, রেল ও ডাকখাতে ৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও পুনরায় স্টেশন মাস্টার খাতে, পোস্ট মাস্টার খাতে পৃথকভাবে, বাজেট কমিটি নাস্তা ও দুপুরের খাওয়ার খাতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সম্মানি খাতে, পৃথকভাবে পুলিশের নাস্তাখাতে, বিবিধখাতের বরাদ্দের পুরোটাই ভুয়া বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনা, সম্মানি দেয়া ও প্রশ্ন শটিং করা খাতে ৩ হাজার ৪৮৫ টাকা রাখা হলেও খরচ হয়েছে ১৩শ টাকা, বেঞ্চ আনা ও ফেরত খাতে, বস্তা ক্রয়ের খাতে, রেল ও ডাক মারফত উত্তরপত্র পাঠানো খাতে, আপ্যায়নখাতে, খাবারখাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এছাড়া একই মাইক্রোবাসযোগে উপজেলার ৫ কেন্দ্রের উত্তরপত্র ও প্রবেশপত্র যশোর বোর্ড থেকে নিয়ে আসা হলেও পৃথক পৃথকভাবে ওই মাইক্রোবাসের সম্পূর্ণ ভাড়া ৫ হাজার ৬৪৫ টাকা করে প্রত্যেক কেন্দ্র থেকে আদায় করা হয়েছে। তাছাড়া প্রবেশপত্র আনার খাত পৃথকভাবে বাজেটে রেখে অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে। উপরোক্ত তথ্য আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের। পরীক্ষার্থীর সংখ্যাভেদে অন্যান্য ৪টি কেন্দ্রের বাজেট পৃথক অঙ্কের হলেও এ সকল নয়ছয়ের খাতগুলোতে একই ধরনের  সাদৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published.