পৃথিবীর শেষ প্রান্তে রহস্যময় বিশাল গর্ত!

 

মাথাভাঙ্গা মনিটর: বিশাল এক রহস্য তৈরি করেছে ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত’ হিসেবে পরিচিত রাশিয়ারইয়ামাল পেনানসুলায় রহস্যময় একটি গর্ত। সপ্তাহ খানেক আগে তৈরি বিশাল এইগর্ত কীভাবে হলো, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। এক সপ্তাহ পরও এর সঠিকব্যাখ্যা দিতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।অদ্ভুত এই গর্তটি তৈরির কারণ কীহতে পারে?গর্ত তৈরির কারণ হিসেবে এখন পর্যন্ত অনেক তত্ত্বই শোনা যাচ্ছে।কেউ বলছেন, গ্রহাণুর আঘাতে এটা ঘটেছে, কেউ বলছেন আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইংঅবজেক্ট (ইউএফও) এর কারণ হতে পারে।

গর্তটির গভীরতা কতো, তা এখনো পরিমাপকরা সম্ভব হয়নি। তবে গর্তমুখের পরিমাপ ১০০ মিটারের কাছাকাছি হতে পারে বলেমনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই গর্তটির তৈরি হওয়া নিয়ে যে রহস্য তৈরি হয়েছে, তাসমাধান করতে ইতোমধ্যে কাজে নেমে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। সিডনি থেকে বিজ্ঞানীদেরএকটি দল বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে বুধবার রাশিয়ায় পৌঁছেছেন। তারা এই রহস্যেরকিনারা করতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে।তবে এই রহস্যময় গর্ত তৈরিহওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভূগর্ভস্থ পানি, লবণ ওগ্যাসের মিশ্রণের ফলে কোনো এক বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হতে পারে এই গর্ত। অবশ্যগ্রহাণু বা উল্কার আঘাতে এই গর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেনঅনেকে।

হঠাত করে সাইবেরিয়ায় তৈরি বিশাল এই গর্তের ভেতরটা ঘন কালো। সম্প্রতি এইগর্তটির একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এই রহস্যময় গর্ত এবংতার চারপাশ ঘিরে থাকা গাছপালা। এলাকাটি বেশ দুর্গম। গর্তটির আশেপাশেরমাটিও বেশ বিপজ্জনক এবং অস্থিতিশীল বলে মনে হয়। এই এলাকার কাছেই একটিপ্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, মাটির নিচে গ্যাস, পানিও লবণের মিশ্রণে কোনো বিস্ফোরণ ঘটার কারণে তৈরি হয়েছে এই গর্ত।

অবশ্য ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এ এই রহস্যময় গর্ত নিয়ে যে প্রতিবেদনপ্রকাশিত হয়েছে তাতে ‘পিঙ্গো’ নামের একটি বিশেষ তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে।অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পোলার সায়েন্টিস্ট ডক্টর ক্রিস ফগউইলের মতে, এই গর্ত তৈরি হয়েছে পিঙ্গোর কারণে। পিঙ্গো হলো মেরু এবং এর কাছাকাছিঅঞ্চলে পাওয়া এক ধরনের বরফের স্তূপ যা মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকে। পিঙ্গোরআকৃতি বেশি বড় হলে এটা যদি গলে গিয়ে থাকে, তবে এই বিশাল গর্ত সৃষ্টি হওয়াসম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ববিদ ডেভিড উইলশের মতে, এটি রহস্যজনক একটি ঘটনা।মাটি নিচের দিকে ধসে গিয়ে তৈরি হওয়া এটা কোনো সাধারণ সিঙ্ক হোল নয়, আবারকোনো উল্কাপাতের ফলেও তৈরি নয়। উল্কার আঘাতে এতো বড় গর্ত তৈরি হওয়ার ঘটনাঘটলে তার প্রভাব হতো ভিন্ন। এ ছাড়া এত গভীর গর্ত হওয়ার প্রশ্নই উঠত না।গর্তের কিনার ঘিরে যে জঞ্জাল দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হয় মাটির নিচ থেকে কোনোধরনের বিস্ফোরণে এটা তৈরি হয়েছে। অবশ্য এই অঞ্চলটি ভূকম্পনপ্রবণ এলাকা নয়।এটা পকেট আকারে সঞ্চিত প্রাকৃতিক গ্যাসের বিস্ফোরণে তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে এই রহস্যময় গর্তের রহস্য উদ্ধারে ইয়ামাল কর্তৃপক্ষ, রাশিয়ারসেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব দ্য আর্কটিক ও ক্রায়োস্ফিয়ার ইনস্টিটিউট অব দ্যএকাডেমী অব সায়েন্সেসের গবেষকেরা কাজ করছেন। মাটি, পানি ও বাতাস থেকেনমুনা বিশ্লেষণ করে এই রহস্য সমাধান করতে চেষ্টা করবেন তারা। রহস্যের জটকি খুলবে শিগগিরই?প্রকৃতির এই রহস্যের সমাধান জানতে আমাদের আপাতত অপেক্ষাকরতে হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published.