দামুড়হুদার ভগিরথপুরের শিক্ষক তানজুল গং কর্তৃক পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের ভিজিটর লাঞ্ছিত : মামলা

দামুড়হুদা প্রতিনিধি: দামুড়হুদার নতিপোতা ইউনিয়নের ভগিরথপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের ভিজিটর বাছিরুনকে (৪০) লাঞ্ছিত করেছেন নতিপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তানজুল ইসলাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। আহত ভিজিটর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিকেলে দামুড়হুদা মডেল থানায় শিক্ষক তানজুলসহ তিনজনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

লাঞ্ছিত ভিজিটর বাছিরুন নেছা জানান, ভগিরথপুরের আইজাল হকের ছেলে শিক্ষক তানজুল ও একই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে মুকুল তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে ভগিরথপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের কোয়ার্টারের ভেতর দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল ও মদ পানসহ গাঁজাসেবন করে আসছেন। সম্প্রতি আমি কোয়ার্টারের চাবি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তানজুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা কোয়ার্টারের রুম খুলে দিতে বলে। আমি রুম খুলে দিতে না চাইলে তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে তারা আমাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়ে দলেচটকে আহত করে। তিনি আরো জানান, সাংবাদিক পরিচয়ে যে দুজন ছবি তুলছিলো তাদের সামনেই আমাকে বেদম মারপিট করলেও তারা ওই ছবিটি তোলেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপরিচিত দুজন কোয়ার্টারের মধ্যে গরুর গোয়ালের ছবি তুলছিলো। তখন ওই ভিজিটর তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা জানান আমরা সাংবাদিক। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ভিজিটর ওই দু সাংবাদিক ভাইকে বলে আপনারা শুধু আমার গরুর গোয়ালের ছবি তুললে হবে না। আপনাদের যারা ডেকে এনেছে সেই নেশাখোর তানজুল মাস্টারদেরও ছবি তুলতে হবে। এ কথার পরপরই তানজুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভিজিটরকে লাঞ্ছিত করে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তানজুল ইসলাম নেশার কথা অস্বীকার করে জানান, ভিজিটরের স্বামী বিল্লাল হোসেন বেশ কিছু দিন ধরে গরুর ব্যবস্যা করে আসছে। সম্প্রতি সময়ে হাট থেকে কিনে আনা সমস্ত গরু ওই সরকারি কোয়ার্টারের মধ্যে রেখে পরিবেশ নষ্ট করে আসছে। আমরা কিছু বলতে গেলে ওই ভিজিটর আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। গতকাল সাংবাদিকরা ওই নোংরা কোয়ার্টারের ছবি তুলতে গেলে আমাদের ওপর দোষারোপ করে গালাগালি করছিলো। এ সময় গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে নিষেধ করলে তাদেরকেও গালাগালি করতে থাকে। এরই একপর্যায়ে কে বা কারা তাকে লাঞ্ছিত করেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *