দামুড়হুদার কুড়ুলগাছি শতবর্ষী পোস্ট অফিসের করুণ দশা

আকাশ বার্তার আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে চিঠির আদান প্রদান

 

হানিফ মন্ডল/হাসেম রেজা: রানার চলেছে রানার, সময় হয়েছে নতুন খবর আনার। সাম্যবাদ ও মানবতাবাদের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্জের একটি কবিতার এ লাইন দুটি এখন আর তেমন প্রযোজ্য নয়। খাকি পোশাক পড়ে কোনো রানারকে এখন আর বলতে শোনা যায় না ‘চিঠি আছে গো চিঠি।’ গায়ের বধূরা আর অপেক্ষা করে না শাদা কিংবা হলুদখামে প্রবাসী প্রিয়তমর চিঠির জন্য। পাল্টেছে যুগ, পাল্টেছে সময়। সর্বত্র লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এক সময় দূর-দূরান্তের স্বজনদের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিলো চিঠির আদান-প্রদান। আকাশ বার্তার আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে চিঠির মাধ্যমে কূশল বিনিময় বিষয়টি। এখন আর চিঠি পড়েনা পোস্ট অফিসের ডাকবাক্সে। অলস দিন কাটে পোস্টমাস্টার, পিয়নসহ অফিসের কর্মচারীদের। শহরাঞ্চালরের দু-একটি পোস্ট অফিসে শুধুমাত্র সরকারী চিঠিপত্র আদান-প্রদান লক্ষ্য করা গেলেও গ্রামাঞ্চলের পোস্টঅফিসগুলোতে একেবারেই তা দেখা যায় না।

জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন এলাকার চিঠি আদান-প্রদানের কথা চিন্তা করেই ১৯০১ সালে তৎকালীন জমিদার মহামতি কৈলাস কামীনি রায় নির্মাণ করেন কুড়ুলগাছি পোস্ট অফিস। ১১২ বছর বয়সী এ পোস্টঅফিস ভবনটির আজ জরাজীর্ণ দশায় পরিণত কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহাসিক একটি নিদর্শন। দেশের সর্বত্র এখন লেগেছে আধুনিকার ছোঁয়া। যোগাযোগের অন্যতম মোবাইলফোন, ই-মেইল, ইন্টারনেট, কুরিয়ার সার্ভিস, বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির মাধ্যমে টাকার আদান-প্রদান, ব্যাংক ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যম। কয়েক বছর আগেও মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিলো চিঠি লেনদেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে হারিয়ে যেতে বসেছে চিঠি চালান প্রথা। কুড়ুলগাছি পোস্টঅফিসের জরার্জীর্ণ ভবনই দাঁড়িয়ে আছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। পোস্ট অফিসে কোনো কাজ নেই বললে ভুল হবে না। তুবও আছে পোস্টঅফিস, আছে পোস্টমাস্টার ও একজন রানার। শতবর্ষ পেরিয়ে যাওয়া এ পোস্টঅফিস ভবনের কোনো প্রকার উন্নয়ন না হলেও একটি মোবাইলফোন কোম্পানি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। যার অর্ধেক ছিঁড়ে গেছে। দেশের অন্যান্য পোস্টঅফিসের মতো কার্যক্রম চালু করে ভবন সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তাদের নজর দেয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *