ঝিনাইদহে গৃহবধূর আত্মহনন : শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার: আমি নিজেকে শেষ করার বুদ্ধি পেয়ে গেছি। চাইলে টিকিট করে ফেল। যদি বাংলাদেশে আসতে চাও। এটাই বলতে চাইছি। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামীর উদ্দেশে ফেসবুক পোস্টে এ কথা লেখেন প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস। এরপরই তিনি ঘুমের বড়ি খান। আর তার ঘুম ভাঙেনি। পরদিন বুধবার হাসপাতালে প্রিয়াঙ্কার মৃত্যু হয়। প্রিয়াঙ্কা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ কুমার বিশ্বাসের মেয়ে। প্রিয়াঙ্কা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনে সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের বেণিকুণ্ডু লেনের কাটনারপাড়া এলাকার প্রশান্ত কুমার দত্তের ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কাজল দত্তের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাজল ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর প্রিয়াঙ্কা বাবার বাড়িতে ছিলেন। প্রিয়াঙ্কার আত্মহননের ঘটনায় তার বাবা বিকাশ কুমার বুধবার জামাতা কাজল, তার মা-বাবাসহ পাঁচজনকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বগুড়া থেকে কাজলের বাবা প্রশান্ত কুমার দত্ত ও মা কণিকা রানীকে গ্রেফতার করে ঝিনাইদহে নিয়ে এসেছে।

বিকাশ কুমার বিশ্বাস বলেন, তার দুই মেয়ে আর এক ছেলে। এ বছরের শুরুতে কাজলের সাথে প্রিয়াঙ্কার বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছিলো। প্রথমে পাত্রপক্ষ ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিলো। তখন তিনি বিয়েতে অসম্মতি জানান। পরে তারা যৌতুক ছাড়াই বিয়েতে রাজি হয়। ১৮ জানুয়ারি প্রিয়াঙ্কার আশীর্বাদ অনুষ্ঠান হয়। এরপর কাজলের বাবা প্রশান্ত দত্ত ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাবে—এ কারণে তিনি ১৯ জানুয়ারি ছেলের মা কণিকা রানীর ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে তারা আরও টাকা দাবি করেন। ২৯ জানুয়ারি আবারও ওই হিসাবে আরও ২ লাখ টাকা পাঠান। এ ফেব্রুয়ারি বিয়ের দিন ৮ লাখ টাকা দেন। আরও টাকার দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রিয়াঙ্কার ওপর নির্যাতন শুরু করেন। এরপর তারা অপবাদ দেন যে প্রিয়াঙ্কা কখনো মা হতে পারবে না। ১১ এপ্রিল কাজল যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়। মেয়েকে তার (বাবার) বাড়িতে নিয়ে আসেন। এখানে থাকা অবস্থায় জামাতা কাজল দত্ত ঠিকমতো খোঁজ নিতেন না। কাজলও প্রিয়াঙ্কার কাছে টাকা চাইতেন।

বিকাশ কুমার আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার রাত ১১টার পর প্রিয়াঙ্কা অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তার ছোট বোন বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের অন্যদের জানায়। তাকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন বেলা ১১টায় প্রিয়াঙ্কাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, নারী নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *