ছেলের ধারালো অস্ত্রের কোপে পিতা রক্তাক্ত জখম

জীবননগরের শাহাপুরে ছাগলে গম খাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরের সাথে পুত্রবধূর ঝগড়া

 

স্টাফ রিপোর্টার: ছাগলে গম খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছেলে জসিমের ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন পিতা ইন্তাজুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জীবননগর শাহপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। পিতা ইন্তাজুলকে জখম অবস্থায় প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জীবননগরের আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কর্চ্চাডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জীবননগর উপজেলার কচ্চাডাঙ্গা গ্রামে মৃত নবী ছদ্দিনের ছেলে ইন্তাজুল ইসলাম (৪৫) দ্বিতীয় বিয়ে করে একই এলাকার শাহপুর গ্রামে নিজে জমি কিনে বসবাস করে আসছে। সেখানে ৯ কাঠা জমির মধ্যে প্রথম স্ত্রীর বড় ছেলে জসিমকে ৩ কাঠা লিখে দেয়। সেখানে জসিম ঘর করে বসবাস করে আসছে। বাকি ৬ কাঠা জমির ৩ কাঠা জমিতে ইন্তাজুলের বাড়ি ও ৩ কাঠা জমিতে চাষবাশ করে। এ জমিতে ইন্তাজুল গমচাষ করে। গতকাল দুপুরে জসিমের ছাগলে গমক্ষেতে খায়। এ নিয়ে জসিমের স্ত্রী শ্বশুর ইন্তাজুলের সাথে ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে জসিমের স্ত্রী মোবাইলফোনে জসিমকে ডেকে নেয়া। জসিমও পিতার সাথে কথাকাটার এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তার মাথা ও পিঠসহ শরীরে বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি কোপ মারলে সে মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে গতরাতে এক ব্যাগ রক্ত দেয়া দেয়া হয়েছে।

আন্দুলবাড়িয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কর্চ্চাডাঙ্গা মাঠপাড়ার ইন্তাজুল ইসলাম মাঠে খেজুর গাছ কাটছিলো। দুপুরে ছেলে জসিম উদ্দিন (২৮) সাথে জমি-জায়গা ও টাকা-পয়সা নিয়ে কথা কাটাকাটি চলছিল। উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে ছেলে জসিম তার পিতার নিকট থেকে গাছ কাটা ধারালো দা কেড়ে নিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনহারা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *