চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার : কথায় অসঙ্গতি নিয়ে কৌতূহল

 

লিপাকে নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নেয়ার উদ্যোগ

কামরুজ্জামান বেল্টু/উজ্জ্বল মাসুদ: লিপা ওরফে লিজার পাশে অবশেষে দাঁড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার আব্দুল্লাহ আল সামী। তিনি লিপা খাতুনকে (১৫) ফরিদপুরের টেপাখোলার নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই তিনি আদালতের আদেশ পেতে আবেদনও প্রণয়ন করেছেন।

লিপা খাতুন খুলনা মানিকতলার আজিউল্লার মেয়ে। চুয়াডাঙ্গা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিপার সাথে কথা বলেছেন। লিপা অপ্রাপ্ত বয়সের। ফলে নিজ হেফাজতে তাকে ছেড়ে দেয়া যাবে না। হয় তাকে তার অভিভাবককে আসতে হবে, নতুবা আদালতের আদেশে শিশু ও নারী কল্যাণ কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। গতকাল প্রবেশন কর্মকর্তা এ মন্তব্য করে বলেছেন, লিপার দেয়া তার চাচাতো ভাইয়ের মোবাইলফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাকে নিতে আসবে বলে জানালেও পরে মোবাইলফোনটি বন্ধ পাওয়ার কারণেই আদালতের মাধ্যমে তাকে ফরিদপুর ট্যাপাখোলার নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ পেতে আবেদনও প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে গতকাল আবেদন আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি। আজকালের মধ্যেই আদেশ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে পারবর্তীপুর গামী রকেট ট্রেন থেকে অজ্ঞান অবস্থায় নামানো হয় লিপাকে। তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসার পর জ্ঞান ফেরে। সে অসঙ্গতিপূর্ণ কথা বলার কারণে অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে। তবে গত কয়েকদিনে সে স্বাভাবিক হয়েছে। কথাবার্তাও অনেকটা সঙ্গতিপূর্ণ হয়েছে। সে বলেছে, তার মা মারা যাওয়ার পর পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছেন। খুলনার বাড়ি ছেড়ে সে যশোর খেজুরতলায় চাচাতো ভাইয়ের কাছে থাকতো। স্কুলে পড়তো। ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। সম্প্রতি তার সাথে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে ঠিক করে। এ কারণেই অভিমানে বাড়ি ছেড়ে ট্রেনে ওঠে। কয়েকজন যুবকের সাথে পরিচয় হয়। ট্রেনেই জ্ঞান হারায়। তার কথায় অসঙ্গতির কারণে কৌতূহলী মানুষের ভিড়ও বেড়ে যায়। নানা সন্দেহও দানা বাধে। মায়ার জালে জড়িয়ে আরামপাড়ার পরিছন আদর যত্ন করলেও তিন দিনের মাথায় তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন। সমাজসেবার তরফে তেমন পদক্ষেপ লক্ষ্য না করে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেনে।

গত কয়েকদিন ধরে লিপা ওরফে লিজাকে নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এরই এক পর্যায়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেন। অবশ্য তিনি আদালতে কবে নাগাদ তার আবেদন পেশ করতে পারবেন তা গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত ছিলো না।

Leave a comment

Your email address will not be published.