চুয়াডাঙ্গায় ছোট পরিবার ধারণার উন্মেষ, পুষ্টি, গর্ভকালীন, নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতকের যত্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: ছোট পরিবার ধারণার উন্মেষ, পুষ্টি, গর্ভকালীন, নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতকের যত্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় জেলার প্রিন্ট ও ইলেকনিক্স মিডিয়ার ৪০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনজুমান আরা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট আব্দুর রাজ্জাক, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ওয়ালিউর রহমান নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মিডিয়া প্রোডাকশন ম্যানেজার মনিরুজ্জামান, আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ। কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. বেলাল উদ্দিন।
কর্মশালায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর কর্তৃক সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩ হাজার ৭৯১টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র (ইউএইচএফডব্লিউসি) পরিচালিত হচ্ছে, ৯৭টি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র (মাতৃসদন) তন্মধ্যে ৬১টি জেলা পর্যায়ে, ১২টি উপজেলা পর্যায়ে, ২৪টি ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৪৭১টি এমসিএইচএফপি ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে। দুটি জাতীয় পর্যায়সহ ৮টি মডেল ক্লিনিক রয়েছে। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর সারাদেশে প্রতিমাসে ৩০ হাজার ভ্রাম্যমাণ স্যাটেলাইট ক্লিনিক পরিচালনা করে এবং জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১৯৭টি এনজিও ক্লিনিক পরিচালনায় সহায়তা করে থাকে বলে জানানো হয়।
চুয়াডাঙ্গায় ইউনিসেফ বাংলাদেশ কর্তক প্রকাশিত (উৎস এমআইসিএস ২০১২-১৩) কিছু তথ্য জানানো হয়েছে সেগুলো হলো, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হার ৭১ দশমিক ৪ ভাগ, গর্ভকালীন চেকআপ কমপক্ষে ৪ বার করাচ্ছেন ২৪ দশমিক ৭ ভাগ, প্রসবোত্তর চেকআপ দু দিনের মধ্যে ৫৪ দশমিক ৭ ভাগ, ২৪ মাস পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন ৭০ দশমিক ৪ ভাগ, দক্ষ সেবাদানকারী মাধ্যমে প্রসব সেবা ৬৮ দশমিক ৬ ভাগ, ১৫ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে ২৫ দশমিক ৯ ভাগ, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে হচ্ছে ৭০ দশমিক ৬ ভাগ। তবে এইচপিএনএসডিপির লক্ষ্যমাত্রা এবং ভিশন ২০২১ পূরণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যার মোকাবেলায় প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস। বাল্যবিয়ে এখনো একটি সামাজিক বড় সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে না দেয়ার আইন প্রচালিত থাকলেও ৬৬ ভাগ মেয়েদের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে। বিয়ের পর যাদের এক তৃতীয়াংশ ১৯ বছর বয়সে মা বা গর্ভবতী হচ্ছে। ১৮ বছরের আগে বিয়ে হচ্ছে শহরে ৫৪ ভাগ ও গ্রামাঞ্চলে ৭১ ভাগ। (বিডিএইচএস ২০১৪) অনুসারে ১৫-১৯ বছর বয়সের দম্পতিদের মাত্র ৪৬ দশমিক ৭ ভাগ পরিবার পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *