উপজেলা নির্বাচনকে জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হিসেবেই নিয়েছে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হিসেবে নিয়ে এতে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আত্মগোপনে থাকা ও মামলা-হামলাসহ নানাভাবে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে সমর্থন নেই, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েও সেটা প্রমাণ করানো যাবে। তৃণমূলকে চাঙ্গা করার অংশ হিসেবে শিগগিরই খালেদা জিয়া জেলা সফরে যাচ্ছেন। উপজেলা স্থানীয় নির্বাচনে তার এই সফর বেশ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অরাজনৈতিক হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ নেই। প্রকাশ্যে ঘোষণা ছাড়া যা যা করা প্রয়োজন তার সবই শুরু করেছে বিএনপির হাইকমান্ড। নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ, প্রার্থী বাছাইসহ বেশকিছু বিষয় উল্লেখ করে তৃণমূলে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। উপজেলাগুলোতে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় নেতা, সাবেক এমপিসহ জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। কোনো উপজেলায় কোন্দলের কারণে বা একাধিক প্রার্থী থাকলে কিংবা জোটের শরিকদের সঙ্গে আপস না হলে সেক্ষেত্রে জেলা কমিটি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করবে। জেলা বিএনপি কোন্দল নিরসন করতে ব্যর্থ হলে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা ও উপজেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী বাছাই করবেন। তবে কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম না করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কড়া হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। বিএনপি সমর্থক বলে পরিচিত স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য কেউ যদি নির্বাচন করে সেক্ষেত্রে দলীয়ভাবে তাকে সমর্থন জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকধারা অব্যাহত থাকে। আমরা সেটা অব্যাহত রাখতে চাই। এছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ রয়েছে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন কতটা সুষ্ঠু নির্বাচন তারা করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে স্থানীয় জনগণ এই সরকারের প্রতি অনাস্থা জানাবে বলে মনে করেন তিনি। প্রার্থী নির্বাচন ও কেন্দ্রের নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার যুগান্তরকে বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে স্থানীয় নেতাদের বলা হয়েছে। বিতর্কিত এবং নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করার কেন্দ্রের নির্দেশও তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা সেদিকে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাই হয়ে থাকে। শুধু আমরা নয়, সাধারণ মানুষই এই সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করছে। তাদের সেই সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যেই আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আশা করি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ডের জবাব দেবে ভোটাররা।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলেন না, তাদের ওপর খুবই নাখোশ খালেদা জিয়া। তাই দলে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যোগ্য নেতাকে যোগ্য জায়গায় নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চান তিনি। এজন্য প্রথমেই দলের জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। কাউন্সিলের পর ঢেলে সাজানো হবে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি।

বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনের বেশির ভাগ জায়গায় জয়ী হয়ে দলের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে চায় দলটি। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কয়েকজন সিনিয়র নেতা বৈঠকও করেছেন। এ সময় খালেদা জিয়া উপজেলা নির্বাচন মনিটরিং করতে দলের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী হয়ে আসার জন্য সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়ার কথাও বলেছেন। কোন্দল থাকলে তা নিরসন করে যে জয়ী হতে পারেন, এমন প্রার্থীকে মনোনীত করার কড়া নির্দেশনা দেন।

কেন্দ্রের এমন নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই বেশ তৎপর হয়ে ওঠে তৃণমূল নেতারা। দফায় দফায় দলীয়, জোট ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উপজেলা বিএনপি নেতারা। প্রার্থী বাছাইয়ে এরই মধ্যে সবার মতামত নেয়া হচ্ছে। গঠন করা হচ্ছে নির্বাচনী মনিটরিং কমিটি। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও এই নির্বাচনকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে যা যা করণীয় তা শুরু করেছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published.