আলমডাঙ্গার মধুপুর থেকে গৃহবন্দী অবস্থায় অত্যাচারের শিকার এক গৃহবধূ উদ্ধার

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: আলমডাঙ্গার মধুপুর থেকে গৃহবন্দী অবস্থায় অত্যাচারের শিকার এক গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘরে আটকে রেখে জঘন্যভাবে ওই গৃহবধূকে মারধর করার এক পর্যায়ে সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও তার আত্মীয়সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার মধুপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে রিপন আলী প্রায় ৪ বছর পূর্বে একই উপজেলার জোড়গাছা গ্রামের মৃত মজিবুল হকের মেয়ে রত্না খাতুনকে (১৬) বিয়ে করে। বিয়ের পর যৌতুক দেয়ার কথা না থাকলেও এতিম মেয়ের সুখের কথা ভেবে আত্মীয়-পরিজনেরা ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন। এরপরও রত্না খাতুনের কপাল খোলেনি। পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিয়ে হলেও বিয়ের পর দীর্ঘ কয়েক বছর রত্নাকে স্বামীর বাড়ি নেয়া হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে স্বামী রিপন তার স্ত্রী রত্নাকে বাড়ি তুলতো না। রত্নার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে রেখে সে মাঝে মধ্যে যাওয়া আসা করতো। এরই এক পর্যায়ে রত্নার আত্মীয়দের চাপাচাপির পর গত প্রায় ৪ মাস আগে রত্নাকে রিপন আলী তার বাড়ি নিয়ে তোলে। কয়েকদিন যেতে না যেতে শুরু হয় অত্যাচার। সে অত্যাচারে ইন্ধন যোগাতেন স্বয়ং রত্না খাতুনের শাশুড়ি অর্থাৎ রিপনের মা। রিপনের মার অভিযোগ- তার ছেলে রিপন আইএ পাস অথচ বৌমা রত্না খাতুন এসএসসি পাসও করেনি। তার এতো বড় শিক্ষিত ছেলের বউ হিসেবে অল্প শিক্ষিত রত্নাকে মানায় না। ফলে কারণে অকারণে শাশুড়ি রত্নাকে ঘরে আটকে রেখে ছেলেকে ডেকে বাড়িতে এনে মারধর করার নির্দেশ দিতো। রত্নার ওপর রিপন অকথ্য অত্যাচার করলেও শাশুড়ি কিংবা অন্য কেউ একটু বাধা দিতো না, পাশে দাঁড়ানো তো দূরে থাক। এ সংবাদ এতিম রত্নার আত্মীয়স্বজনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। রত্নার ভাইসহ আত্মীয়স্বজন তাকে নিতে গেলে অপমান করে তাড়িয়ে দিতো রিপন ও তার মা। বলতো তালাক নিয়ে চিরদিনের জন্য রত্নাকে নিয়ে যেতে। এমন আচরণের ফলে আত্মীয়দের কেউ আর রত্নাকে দেখতেও যেতো না। এরই এক পর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রত্নাকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখা হয়। কৌশলে মোবাইফোনে এ সংবাদ রত্না তার ফুফুকে জানালে বিকেলে আত্মীয়স্বজন আলমডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন। সন্ধ্যায় এসআই আনিস রত্নার আত্মীয়স্বজনসহ মধুপুর গ্রামে গিয়ে রত্নাকে ঘরে বন্দী অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে গতকাল রাতে মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *